যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের সাধারণ মুদি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন এখন কোটি টাকার সম্পদের মালিক এমন আলোচনা এখন পুরো এলাকাজুড়ে। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ পণ্য বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি সেই সময় ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতের মাধ্যমে আরিফ হোসেন বিপুল অর্থ উপার্জন করেন। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরও থেমে নেই তার এই অবৈধ ব্যবসা। বর্তমানে তিনি স্থানীয় কথিত বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে আবারও সীমান্তপথে পণ্য এনে সেই অবৈধ ব্যবসা হরহামেশে চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা উপজেলার গোগা, রুদ্রপুর ও দাউদখালি এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার ভাদিয়ালি, বড়ালী ও কুষখালি সীমান্ত এলাকা দিয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে এসব পণ্য দেশের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জিরা, এলাচ, গুঁড়াদুধ, চা পাতা, হরলিক্সসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির চকলেট এবং নানা ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী। কসমেটিকস পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশন, পারফিউম, সাবান, শ্যাম্পু ও মেকআপ সামগ্রী। সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য এনে বাগআঁচড়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করেন আরিফ। এছাড়াও খোলা বাজার থেকে অল্প মূল্যের পণ্য কিনে তা আবার দেশের নামি-দামি কোম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে। সম্প্রতি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শার্শা উপজেলা প্রশাসন আরিফের দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে প্যাকেটজাত পণ্য জব্দ এবং জরিমানা আরোপ করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন আরিফ হোসেন। তার পিতা আব্দুল মাজেদ জীবিকার তাগিদে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চিটাগুড় তৈরি ও বিক্রি করতেন। সেই সামান্য আয়ের ওপরই চলত পুরো পরিবার। শার্শা উপজেলার বাগুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মাত্র চার শতক জমির ওপর একটি সাধারণ ঘরে বসবাস করতেন তারা।
পরে বাগআঁচড়া বাজারের চিনি পট্টিতে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন তার পরিবার। সেই দোকান থেকেই ব্যবসায়িক জীবনের শুরু আরিফের। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট দোকান থেকেই বর্তমানে বাগআঁচড়া এলাকায় তিনি তিনতলা বিশিষ্ট একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রয় করেছেন। এক সময়ের দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের এই দ্রুত সম্পদবৃদ্ধি এখন স্থানীয়দের আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ ও বাজারজাত করণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন কর্মকাণ্ড আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে নাভারণ সার্কেল এএসপি (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করা হবে এবং অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনার যশোরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, যদি কোন ব্যক্তি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুক। প্রকাশক কর্তৃক বি,এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড , ঢাকা- ১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ২ আর কে মিশন রোড (৫ম তলা) থেকে প্রকাশিত।
© All rights reserved © 2017 Alokito Kantho