ঢাকাঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পিছিয়ে আগামী ৫ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ নতুন দিন ধার্য করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি-কে দায়িত্ব দেয়।
তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি মামলার প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে থাকা এক আততায়ী এই হামলা চালায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হামলার পর ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করা হলেও পরে এতে ৩০২ ধারায় হত্যা যুক্ত হয়। প্রথমে থানা পুলিশ, এরপর ডিবি পুলিশ মামলার তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত কর্মকর্তার মতে, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যও এতে কাজ করেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুক। প্রকাশক কর্তৃক বি,এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড , ঢাকা- ১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ২ আর কে মিশন রোড (৫ম তলা) থেকে প্রকাশিত।
© All rights reserved © 2017 Alokito Kantho