১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জকসুতে জয়ী প্রতিনিধিদের মূল্যায়ন না করে ডাকসুর পরাজিতদের নিয়ে বিএনপির চীন সফর

  • জবি প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ঃ চীন সরকারের আমন্ত্রণে আগামী ৪ থেকে ১৪ জুন দেশটি সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০ তরুণের একটি প্রতিনিধি দল। সম্প্রতি চীনা দূতাবাস থেকে প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতাদের নাম থাকলেও জায়গা হয়নি ছাত্রদল থেকে বিজয়ী কোনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রতিনিধির। বিষয়টি নিয়ে জবি ছাত্ররাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্রনেতারা হলেন— মো. মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া, খন্দকার এনামুল হক, শরীফ উদ্দিন, গালিব হাসান প্রীতম, আরাফাত বিল্লাহ খান, মেহেদী হাসান জুয়েল, শ্যামল মওলা, জহিরুল ইসলাম, এ বি এম ইজারুল কবি, মো. মঞ্জুরুল আলম, আবিদুল ইসলাম খান, শেখ তানভীর বারী হামিম, আব্দুর রশিদ, আইয়ুবুর রহমান, শ্রাবণী আক্তার, নওশীন নাহার, সেলিমা বিনতে তারিন, তানজিলা হোসেন, রাবেয়া তাশিন মৌ ও জান্নাতুল নওরীন উর্মি।

জুলাই বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ছাত্রদলের সবচেয়ে ভালো ফলাফল আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপরও চীন সফরের প্রতিনিধি দলে জকসুর কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “চীনা সরকারের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাচ্ছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এই তালিকায় মূলত বিভিন্ন ছাত্র সংসদে যারা ভিপি, জিএস, এজিএস ক্যান্ডিডেট ছিলেন তাদের রাখা হয়েছে। এই তালিকায় জকসুর নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি না থাকলেও, পরবর্তী তালিকায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও সুযোগ পাবেন।”

এদিকে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “আমি নিজেও তালিকাটি দেখেছি। সেখানে জগন্নাথের কোনো প্রতিনিধি না থাকাটা খারাপ লেগেছে। বিগত ছাত্র সংসদগুলোর মধ্যে জগন্নাথের ফলাফল সবচেয়ে ভালো হওয়া সত্ত্বেও কাউকে রাখা হয়নি। আমি প্রত্যাশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে অবশ্যই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হবে।”

জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব বলেন, “বিষয়টা আমাদের জন্য হতাশাজনক। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথেও দেখা করার সুযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে জগন্নাথকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছি।”

জকসুর নির্বাহী সদস্য সাদমান সাম্য বলেন, “এই তালিকায় আমাদের জায়গা হয়নি ঠিকই, তবে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সফর হবে। সেখানে জগন্নাথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ও যোগ্য প্রতিনিধিরা সুযোগ পাবেন বলে আশা করি। নির্দিষ্ট সংখ্যক সুযোগ থাকায় সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।”

জয়ী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পরাজিত প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “দল আসলে কে জয়ী আর কে পরাজিত, সেটি বিবেচনা করেনি। দল তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তালিকা করেছে। তবে ভবিষ্যতে জগন্নাথ অবশ্যই মূল্যায়িত হবে বলে আশা করি।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে; খাদ্যমন্ত্রী

জকসুতে জয়ী প্রতিনিধিদের মূল্যায়ন না করে ডাকসুর পরাজিতদের নিয়ে বিএনপির চীন সফর

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ঃ চীন সরকারের আমন্ত্রণে আগামী ৪ থেকে ১৪ জুন দেশটি সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০ তরুণের একটি প্রতিনিধি দল। সম্প্রতি চীনা দূতাবাস থেকে প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতাদের নাম থাকলেও জায়গা হয়নি ছাত্রদল থেকে বিজয়ী কোনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রতিনিধির। বিষয়টি নিয়ে জবি ছাত্ররাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্রনেতারা হলেন— মো. মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া, খন্দকার এনামুল হক, শরীফ উদ্দিন, গালিব হাসান প্রীতম, আরাফাত বিল্লাহ খান, মেহেদী হাসান জুয়েল, শ্যামল মওলা, জহিরুল ইসলাম, এ বি এম ইজারুল কবি, মো. মঞ্জুরুল আলম, আবিদুল ইসলাম খান, শেখ তানভীর বারী হামিম, আব্দুর রশিদ, আইয়ুবুর রহমান, শ্রাবণী আক্তার, নওশীন নাহার, সেলিমা বিনতে তারিন, তানজিলা হোসেন, রাবেয়া তাশিন মৌ ও জান্নাতুল নওরীন উর্মি।

জুলাই বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ছাত্রদলের সবচেয়ে ভালো ফলাফল আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপরও চীন সফরের প্রতিনিধি দলে জকসুর কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “চীনা সরকারের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাচ্ছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এই তালিকায় মূলত বিভিন্ন ছাত্র সংসদে যারা ভিপি, জিএস, এজিএস ক্যান্ডিডেট ছিলেন তাদের রাখা হয়েছে। এই তালিকায় জকসুর নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি না থাকলেও, পরবর্তী তালিকায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও সুযোগ পাবেন।”

এদিকে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “আমি নিজেও তালিকাটি দেখেছি। সেখানে জগন্নাথের কোনো প্রতিনিধি না থাকাটা খারাপ লেগেছে। বিগত ছাত্র সংসদগুলোর মধ্যে জগন্নাথের ফলাফল সবচেয়ে ভালো হওয়া সত্ত্বেও কাউকে রাখা হয়নি। আমি প্রত্যাশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে অবশ্যই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হবে।”

জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব বলেন, “বিষয়টা আমাদের জন্য হতাশাজনক। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথেও দেখা করার সুযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে জগন্নাথকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছি।”

জকসুর নির্বাহী সদস্য সাদমান সাম্য বলেন, “এই তালিকায় আমাদের জায়গা হয়নি ঠিকই, তবে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সফর হবে। সেখানে জগন্নাথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ও যোগ্য প্রতিনিধিরা সুযোগ পাবেন বলে আশা করি। নির্দিষ্ট সংখ্যক সুযোগ থাকায় সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।”

জয়ী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পরাজিত প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “দল আসলে কে জয়ী আর কে পরাজিত, সেটি বিবেচনা করেনি। দল তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তালিকা করেছে। তবে ভবিষ্যতে জগন্নাথ অবশ্যই মূল্যায়িত হবে বলে আশা করি।”