
গাজীপুরঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জয়দেবপুরে শিববাড়ি মোড়স্থ হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগমের স্বামীর বিনিয়োগকৃত ২৬ লক্ষ টাকাসহ শেয়ার বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কয়েক কোটি টাকা আত্বসাত করে হাসপাতালটি অন্যত্র গোপনে বিক্রি করার পায়তারা করার অভিযোগ
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জয়দবপুর থানাধীন শিববাড়ি মোড়স্থ আলাউদ্দিন ভবনে হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এ (যার রেজি: নং সি- ৯৯৯৯২/১২) মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগম এর স্বামী এমএ হান্নানের বিনিয়োগকৃত ২৬ লক্ষ টাকাসহ মেডিকেলের এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার এর শেয়ার বিক্রির নামে একাধিক সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবং শেয়ার ক্রেতাদের লভ্যাংশ তো দেয়া দুরের কথা, শেয়ার ক্রেতাদের দেয়া মূল টাকা ফেরৎ না দিয়ে এবং শেয়ার ক্রেতাদের না জানিয়ে হাসপাতালটি গোপনে অন্যত্র প্রায় ৪ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেশের বাইরে চলে যাবার বা আত্মগোপনে যাবার পায়তারা করছে হাসপাতালের এমডি আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ তার একান্ত সহযোগী হাসপাতালের পরিচালক মো. মোবারক ভূইয়া, পরিচালক আসিয়ার রহমান লিমন গং।
অভিযোগে জানা যায়, জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি (জাপমাস) এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ারা বেগম এর স্বামী এম এ হান্নান, গ্রাম: বেড়ুয়া, পোঃ ভাওয়াল, ব্রাহ্মণগাঁও থানা: কালীগঞ্জ, জেলা: গাজীপুর স্থিত ব্যক্তির সাথে ১০০/- (একশত) টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে গত ০১/৯/ ২০২০ ইং তারিখে হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি; এর পরিচালক মোবারক ভূইয়া ও পরিচালক আসিয়ার রহমান লিমন উপস্থিতি ও স্বাক্ষীতে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদন করে ২০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: যার এর পক্ষে উক্ত মেডিকেলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এবং গত ০১/১০/২০২০ ইং তারিখেও এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন ১০০ টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র সম্পাদন করে ৬ লক্ষ টাকা উক্ত ২ পরিচালকের উপস্থিতিতে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ উক্ত মেডিকেলের এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন মোট ২৬ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য,মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগমের স্বামী এম এ হান্নান গত ২৩/০৮/২০২৩ ইং তারিখে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে আনোয়ারা বেগমকে উল্লেখিত মুনাফার টাকা প্রতিমাসে ১৫/২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হলেও গত ৮/৯ মাসে আনোয়ারা বেগমকে ব্যবসায়িক ২ টি চুক্তিপত্রে উল্লেখিত মোট ২৬ লক্ষ টাকা ও মুনাফা বাবদ কোন টাকা দিচ্ছেন না হাসপাতালের এমডি ও উল্লেখিত ২ পরিচালক।
জানা যায়, আনোয়ারা বেগম গত ১ বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি টাকার অভাবে সুচিকিৎসা করাতে পারছেন না এবং তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এম এ হান্নানের দেয়া মোট ২৬ লক্ষ টাকা এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচালক মোবারক ভূইয়া ও পরিচালক আসিয়ার রহমান লিমনকে ফেরত দিতে বললে আজ না কাল, আগামী সপ্তাহ, সামনের মাসের মধ্যেই ২৬ লক্ষ টাকা দিয়ে দিব বলে কাল ক্ষেপন করছে। এদিকে, আনোয়ারা বেগম বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পারেন, হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টারটি প্রায় ৪ কোটি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দিয়ে আনোয়ারা বেগমের স্বামী মৃত এম এ হান্নানের বিনিয়োগকৃত ২৬ লক্ষ টাকা আনোয়ারা বেগমকে না দিয়ে এমডি, উল্লেখিত পরিচালকদ্বয় আত্মসাৎ করার পায়তারা করছে। উক্ত বিষয়ে যদি আনোয়ারা বেগম কোন সালিশ বা কোন আইনের আশ্রয় নেন তবে তাকেসহ তার পরিবার তথা নিকট আত্বীয় স্বজনকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করাসহ মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে।
এব্যাপারে আইনী সহায়তা চেয়ে মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগম মানবাধিকার সংস্থা জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি জাপমাস বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের আলোকে মানবাধিকার সোসাইটি (জাপমাস) হলিল্যাব হাসপাতালের এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচালক মোবারক ভূইয়া, পরিচালক আসিয়ার রহমান লিমন গংদের বিরুদ্ধে গত ৯ আগস্ট /২৬ একটি নোটিশ প্রেরণ করে।
পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগম ২৬ লক্ষ টাকা উদ্ধারকল্পে পুলিশ সুপার গাজীপুর, পুলিশ কমিশনার গাজীপুর, অধিনায়ক Rab 1 বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সরকারি ডাক যোগে প্রেরণ করে। বিষয়টি দেখার কেউ নেই যেনো " এমএ হান্নান উক্ত হাসপাতালে ২৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন কিনা হাসপাতালের পরিচালক মোবারক ভূইয়ার কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ সত্য। তার স্বামী ২৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছে এটাও সত্য। তিনি বলেন, আমি নিজে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন সাহেবকে এনে দিয়েছি। যারা আমার মাধ্যমে হলিল্যাব হাসপাতালে উক্ত টাকা বিনিয়োগ করেছে তাদের টাকাও দিচ্ছে না এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পরিচালক আসিয়ার রহমান লিমনও জানান, আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ পুরোপুরি সত্য। হাসপাতালটি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান। আনোয়ারা বেগমের অভিযোগের আলোকে এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমএ হান্নান ২৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছে এটা সত্য।
তাহলে উক্ত টাকা আনোয়ারা বেগমকে দিচ্ছেন না কেন? এ প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোন কেটে দেন।
পরে একাধিক বার ফোন করলে তার মুটোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগম তার স্বামীর বিনিয়োগ কৃত ২৬ লক্ষ টাকাসহ বিভিন্নজনের বিনিয়োগকৃত কয়েক কোটি টাকা উদ্ধারসহ হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি এর এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচালক মোবারক ভূইয়া, পরিচালক আসিয়ার রহমান লিমন গংদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা বেগম।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুক। প্রকাশক কর্তৃক বি,এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড , ঢাকা- ১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ২ আর কে মিশন রোড (৫ম তলা) থেকে প্রকাশিত।
© All rights reserved © 2017 Alokito Kantho