
মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন,"ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা একই দেশের নাগরিক।
দেশের কল্যানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আসলে কোন লোক কোন সরকার আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তা হৃদয়ে অনুধাবন করতে হবে। কোন দল আপনাদের প্রকৃত বন্ধু তা মাথায় রাখতে হবে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের সকল অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের জানমালের নিরাপত্তা দিয়েছে। এখনও দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী আপনাদের পাশে ছিল। আপনাদের কোন জায়গায় আচর লাগতে দেয়নি। বিগত ১৭ বছর আপনাদেরকে ছায়ার মত করে রেখেছি। আজকে যে সকল নেতাকর্মীদেরকে দেখছেন, তারা আপনাদের দুঃসময়ের নেতা কর্মী।
তারা নতুন নেতাকর্মী নয়।এই দুঃসময়ের নেতাকর্মীদেরকে আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে।
আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে আপনাদের প্রকৃত বন্ধু কে?
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে মানিকগঞ্জ সদর,সিংগাইর, শিবালয় উপজেলাসহ বেশকিছু দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কালে খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি এসব কথা বলেন ।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং এ দেশের নাগরিক। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সহজ হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে দুর্গাপূজা। খাদ্য মন্ত্রী প্রতিটি পুজামন্ডবে উপস্থিত হয়ে সনাতনীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রতিটি পূজামণ্ডপ গুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
খাদ্যমন্ত্রী পূজার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আয়োজনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পক্ষ থেকে স্থানীয় সমস্যা ও নানা দাবি তুলে ধরা হলে তিনি পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
হরিরামপুরের আন্ধারমানিক নেপাল হালদারের বাড়ীর পুজা মন্ডপে খাদ্য মন্ত্রী বলেন, “আজ আপনাদের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা পাশে ছিলেন বলেই আজ আমি মন্ত্রী হতে পেরেছি। এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সবার কল্যাণে কাজ করতে পারি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসছে। সেখানে আপনাদের বিরাট ভূমিকা রাখতে হবে। সেই নির্বাচনে যাতে ভালো একজন মানুষ আসে। যে আপনাদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হবে, স্বচ্ছ মানুষ, সে দিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,যদি ভালো মানুষ না আসে,তাহলে আমরা যারা মন্ত্রী আছি, তারাও কিছুি করতে পারবো না। কারণ, এলাকার উন্নয়নের কাজে যত অনুদান আসে, তা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার দ্বারাই কাজ করানো হয়। সেই ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান মেম্বার নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে ও গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুক। প্রকাশক কর্তৃক বি,এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড , ঢাকা- ১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ২ আর কে মিশন রোড (৫ম তলা) থেকে প্রকাশিত।
© All rights reserved © 2017 Alokito Kantho