শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

দেশের রাজনীতিতে এরশাদ পর্বের অবসান

  • সর্বশেষ আপডেট রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৯, ৫.২৯ এএম

আলোকিত কন্ঠ ডেস্ক: হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে রোববার (১৪জুলাই) সকাল পৌনে আটটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের দ্বিতীয় অবৈধ সেনা শাসক এরশাদ।

দেশের রাজনীতিতে এবং  রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবার প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কুশীলবদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত, নিন্দিত, ক্ষেত্র বিশেষে সমাদৃত বহুরুপী চরিত্রের যিনি, তিনি সদ্য প্রয়াত এরশাদ। আশির দশকের রাষ্ট্রপতি এরশাদ মৃত্যুকালে ছিলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। নিঃসন্তান এরশাদের বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

দেশের কীংবদন্তী পটুয়া কামরুল হাসান একাত্তরে জানোয়ারের রুপ দেখেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা, ৩০ লক্ষ বাঙালী নিধনের হোতা ইয়াহিয়া খানের চেহারায়। এই জানোয়ারকে ধরিয়ে দিন বলে মুক্তিযুদ্ধের সময় এঁকেছিলেন প্রতিবাদী এই চিরঅমলিন ঐতিহাসিক ছবিটি।

আশির দশকেও চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান আলোড়ন তুলেন দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে বলে। সেবার আঁকেন দেশের দ্বিতীয় সামরিক শাসক এরশাদকে। শিল্পী তার চেহারায় খুঁজে পান বিশ্ব বেহায়ার রুপ।

সময়ে সময়ে এভাবেই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, হাস্য-রসেরও খোরাক হন রাজনীতিতে এক রহস্যময় চরিত্র এরশাদ। মৃত্যুকালে তার দল জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদে শতভাগ বিরোধী দল এবং এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা। কিন্তু ছয়মাস আগে বিলুপ্ত দশম সংসদে তার দল একই সাথে ছিল বিরোধীদল এবং সরকারে। সেই মেয়াদে এরশাদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত, তার স্ত্রী রওশন ছিলেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী।

আশির দশকের শুরুতে সেনা প্রধান এরশাদ রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যূত্থানে রাষ্ট্রক্ষমতা নেন। সামরিক শাসক ও  রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয় বছর দেশ চালান, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে স্বৈরাচারের প্রতীক হন। সংবিধান ও সমাজের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চরিত্র হরণ করেন। রাষ্ট্রধর্ম বানিয়ে দেশে এক জটিল সাম্প্রদয়িক রাজনীতি উস্কে দিয়ে গেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তার সামরিক শাসন অবৈধ ছিল। শাসনকালে বহু শুক্রবার কোন মসজিদে জুমার নামাজে গিয়ে দাবি করতেন রাতে স্বপ্নে নির্দেশস পেয়ে গিয়েছেন। তার মন্ত্রীসভায় ছিল রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীরা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চাকুরী করেছেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে। দেশে ফেরেন ১৯৭৩ সালে।  চাকুরীতে সুবিধা পেয়েছেন সব আমলেই। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে সেনা প্রধান করেন। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী হলেও অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের সাথেও জোট বেঁধেছেন এরশাদ। স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বড় বন্ধু বিএনপির সাথেও জোট বেঁধেছিলেন নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে।

নব্বইয়ের দশকে দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এরশাদ জেল খাটেন। আশির দশকে রাজনীতির সবচে বড় খলনায়ক এরশাদ গণআন্দোলন ও জনরোষের মুখে ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। কিন্তু ১৯৯১ সালে কারাগারে বন্দি থেকে নির্বাচন করে রংপুরের পাঁচটি আসনে জিতে তাক লাগান। তার দল জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ৩৫টি আসন। সেই থেকে এরশাদ ক্ষমতার রাজনীতিতে আমৃত্যু ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে এবং স্বাধীনতার পর বিশেষ করে ৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়া ও জেনারেল মঞ্জুরসহ বহু সামরিক কর্মকর্তার হত্যা, জেল ও চাকুরিচ্যুতির ঘটনায় তার বিতর্কিত ভূমিকা রহস্যের আড়ালে রেখেই চিরনিদ্রায় গেলেন এরশাদ। ১৯৮১ সালে জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত এরশাদ বিচার এড়াতে পেরেছেন শেষ পর্যন্ত। ১৯৩০ সালে ভারতের কুচবিহারে জন্ম নেয়া এরশাদের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল গুঞ্জণে ভরপুর। নিঃসন্তান হলেও পালিত সন্তান, বহু বিবাহ ও নারীসঙ্গ নিয়ে সবচে বেশি আলোচিত শাসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন এরশাদ।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themebaalokitokant1852550985
©2019 All rights reserved Alokitokantho
Devoloped by alokito kantho.com