রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩০ অপরাহ্ন

শিবালয়ে ভুমি দালালচক্রের হুমকিতে নওমুসলিম পরিবার

  • সর্বশেষ আপডেট সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭.০৭ এএম

আরিচা সংবাদদাতাঃ শিবালয় উপজেলার শিবালয় গ্রামে এক নওমুসলিম পরিবারের সন্তানদেরকে ভিটেমাটি ছাড়া করার চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি চিহ্নিত ভুমি দালালচক্র। দালাল এবং তাদের সহযোগীদের প্রতিনিয়ত হুমকিতে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে ওই পরিবারটি।

দালালচক্র ওই ভুমির কতিপয় নামধারী ওয়ারিশানদেরকে প্ররোচিত করে জন্ম ভিটা থেকে নওমুসলিম কাশেম আলীর সন্তানদেরকে ভিটে-মাটি ছাড়ার অব্যাহত প্রচেষ্টায় স্থানীয় প্রভাবশালীদেরকে প্ররোচিত করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদসহ নেতা-মাতব্বরদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে কোন সমাধান না পেয়ে অবশেষে আদালতের স্মরনাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী ওই পরিবারটি।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও আদালতের আরজি থেকে জানা যায়, শিবালয় উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রয়াত দুখী হালদারের পুত্র কান্টু হালদার প্রায় ৮০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আবুল কাশেম নাম ধারন করে শিবালয় গ্রামের ইমারত শেখের কন্যা শীতল জানকে বিয়ে করে স্বশুরালয়ে বসবাস করতে থাকেন। স্বধর্ম ত্যাগ করায় সম্পদহীন হয়ে পৈত্রিক পেশা মাছ ধরাসহ দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন তিনি। যমুনার ভাঙ্গনে স্বশুর বাড়িটি বিলীন হওয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন এ দম্পতি। অতি কষ্টে অর্জিত জমানো ৬০ টাকা দিয়ে আরিচা মহাসড়কের পাশে শিবালয় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এক খন্ড জমি কিনে মাটি ভরাটপূর্বক ঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন কাশেম দম্পতি। কাশেম ও তার স্ত্রী দুই পুত্র ও চার কণ্যা সন্তান রেখে মারা যান। পিতামাতার ওয়ারিশদার হিসেবে তাদের সন্তানেরা বসবাস করে আসছেন ওই বাড়িতে।

কাশেম আলীর বড় পুত্র আবুল হাসেম জানান, প্রায় ৭০ বছর আগে ক্রয়কৃত ভোগদখল করা তাদের এই বাড়িটি ক্রয় করেছেন দাবী করে শিবালয় থানায় কর্মরত ইমরান হোসেন নামের এক ব্যাক্তি। তাকে সাথে নিয়ে ওই ভুমির পূর্বতন মালিক আব্দুর রহমানের ওয়ারিশান দাবিদার শিবালয় গ্রামের মৃত-হেলাল উদ্দিনের পুত্র রাজিব হোসেন তার এক আত্মীয় শাহদাত হোসেন ও স্থানীয় দালাল চক্র প্রতিনিয়ত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, প্রায় ৭০ বছর আগে শিবালয় গ্রামের আব্দুর রহমান বাড়িটির ওই জায়গা তাদের কাছে বিক্রি করলেও হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যেতে পারেননি। বিধায় নিঃসন্তান আব্দুর রহমানের ভাতিজা মরহুম আলো মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে উত্তরাধিকার হিসেবে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আরো ৫হাজার টাকা নেন। তিনিও মারা গেলে জমিটি আর রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারী নোটিশ পেয়ে দখলদার হিসেবে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন তারা।ওই বাড়ির মোট ৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভুমির মধ্যে ফারাস অনুযায়ী রাজিব ও শাহাদত মাত্র অর্ধ শতাংশের মালিক হলেও স্ট্যাম্প বা পাওয়ার অফ এ্যার্টনি মুলে পুরো অংশই বিক্রির চেষ্টায় স্থানীয় প্রভাবশালী মাস্তান ও প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

মরহুম কাশেম আলীর দ্বিতীয় পুত্র ইয়াকুব আলী জানান, স্থানীয় পর্যায়ে কোন মিমাংসা না পেয়ে তিনি মানিকগঞ্জ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন।মামলা প্রত্যাহারসহ তাদের দাবিকৃত জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকির সম্মুখিন হচ্ছেন তারা। স্থানীয় মাতব্বর ও দালালরা আপোষ মিমাংশার জন্য তাদেরকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। তারা উচ্ছেদ আতংকে ভুগছেন। এমতাবস্থায় তাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদন করেছেন।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themebaalokitokant1852550985
©2019 All rights reserved Alokitokantho
Devoloped by alokito kantho.com