শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০২:২৮ অপরাহ্ন

ইউ,পি চেয়ারম্যানের জামাতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

  • সর্বশেষ আপডেট শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ৩.৩৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাভারের আশুলিয়ায় “কাউয়া ও হাইব্রিড মুক্ত যুবলীগ চাই’’ লেখা সম্বলীত ফেষ্টুন অপসারনকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বেরন এলাকার ছয়তলা এলাকা থেকে  উজ্জল ভুঁইয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী উজ্জল ভুঁইয়া আশুলিয়ার বেরন এলাকার জরু ভুঁইয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জামাতা রুবেল আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী রিপন মিয়ার স্ত্রী চায়না বেগম। এর আগে গত শনিবার ( ৯ নভেম্বর ) ভোর রাত ৩টার দিকে আশুলিয়ার বেরন এলাকার ক্রিয়েশন গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহম্মেদ ভূইয়ার মেয়ের জামাই রুবেল আহম্মেদ (৩৮), জামগড়া ভূইয়াপাড়া এলাকার জরু ভূইয়ার ছেলে উজ্জল ভূইয়া (৩৬), জসিম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক ইমু (২২), জালাল মোল্লার ছেলে ময়না মোল্লা (৩৫), মো. সম্রাট (৩০), তমিজ মীরের ছেলে সুমন মীর (২৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন।

এ ব্যাপারে ইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের জামাতা মামলার প্রধান আসামী রুবেল আহম্মেদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট। এই মামলার কথা শুনে আমি স্তম্ভিত। আমি বর্তমান আশুলিয়া থানা যুবলীগের রাজনৈতিক শিকার। আমি সাভার-আশুলিয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, পােষাক কারখানার মালিক এবং বিজিএমইএ’র সদস্য। আমি কেন তাদের (যুবলীগের) লোকজনকে রাত ৩টা বাজে হামলা করতে যাবো ? আমি কি সন্ত্রাসী ? বিষয়টি আমার কাছে হাস্যকর। আমার অপরাধ আমি ইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের জামাতা। এ ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখন যথেষ্ট এ্যকটিভ। তারা সবই বুঝেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই ’’
এ ব্যাপারে জানতে উজ্জল ভূইয়াকে গত ৯ নভেম্বর তারিখ বিকেলে কল করলে মুঠোফোনে বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা। আল্লাহ সবার বিচার করবে ’’

মামলার এজাহারে বর্নিত , অভিযুক্তরা আশুলিয়া থানা যুবলীগের ব্যানারে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানী করে আসছিলো। এ ঘটনায় থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি অপপ্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ফেস্টুন খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই মোতাবেক শুক্রবার ( ৮ নভেম্বর ) রাতে যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়া, ফারুক, শিপু, রিপন, বাবু ও নয়ন ইয়ারপুর ও জামগড়া এলাকায় অপপ্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ফেস্টুন খুলে পিকআপ গাড়িতে করে জামগড়া হইতে নরসিংহপুরের দিকে যাচ্ছিলো। বিষয়টি জানতে পেরে রাত তিনটার দিকে অপপ্রচারকারী ঝুট ব্যবসায়ী রুবেল আহম্মেদ ও তার বাহিনীর লোকজন যুবলীগ কর্মীদের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়ার স্ত্রীর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে বেশ কিছু অসংলগ্ন উত্তর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ৭ তারিখ রাত ৩ টার দিকে রুবেল ভূইয়া, উজ্জল ভূইয়া ও ময়নাল আমার স্বামী রিপনকে রামদা দিয়ে কুপিয়েছে।

আপনি(চায়না বেগম) কি সেখানে ছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, না আমি বাড়ীতে ছিলাম, ৮ তারিখ সকাল ১১টার দিকে আমাকে আমার স্বামী ফোনে এসব কথা বলেন, আমি এতটুকুই জানি।

আপনার (চায়না বেগম) স্বামী কী যুবলীগ করে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুবলীগ করে কিনা আমি জানি না। তবে ওই ফেষ্টুন ব্যানার খুলছিলো এসময় রুবেল ভূইয়া, উজ্জল ভূইয়া, ময়নাল তাকে কুপিয়েছে এ কথাগুলো আমার স্বামীর কাছে ফোনে শুনছি।

এ সংঘর্ষের বিষয়ে রিপন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি অফিস থেকে বের হইছি, আমার কাছে টাকা ছিল আর মাইরা মুইরা টাকা টুকা মোবাইল টোবাইল সব নিয়া গেছে। আমার মাথায় ৭/৮ টা ছিলাই লাগছে।

কারা কারা মারছে? মামলার কপিতে প্রধান আসামী করা হয়েছে রুবেল ভূইয়াকে জবাবে রিপন মিয়া বলেন, আমিতো সেটা সঠিক জানি না, আমাকে পাইপ দিয়া পিটাইছে ওতোকিছু চিনতে পারিনি। ওদের কাছে দাও ছিলো, রামদা ছিলো, বড় বড় পাইপ ছিলো ওগুলো দিয়ে আমাকে মারছে, আমি ওদের কাউকে ঠিক চিনতে পারি নি।

আপনার স্ত্রী যে অভিযোগ করেছে প্রধান আসামী রুবেল ভূইয়া, উজ্জল ভূইয়া আপনাকে মেরেছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি (রিপন মিয়া) বলেন, হয়তো ময়নাল ছিলো, আমি সঠিক জানা নেই।

আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, যুবলীগ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং এ মামলার ভিত্তিতে দ্বিতীয় আসামি উজ্জল ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themebaalokitokant1852550985
©2019 All rights reserved Alokitokantho  
Devoloped by alokito kantho.com