
মুফতি আলাউদ্দীন আল আজাদঃ পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সময়ে আশ্চর্য অনেক ঘটনা মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। যাতে মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি আস্থা পরকালের প্রতি বিশ্বাস জন্মে। মানুষ সঠিক পথের দিশা পেতে পারে।
বনি ইসরাইলে এক নওজোয়ান যুবক ছিলো। একবার সে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে, তার মা তার জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে মানত করে। যদি তার সন্তান সুস্থ হয়ে যায়। তাহলে সে অবশ্যই দুনিয়া থেকে সাত দিনের জন্য বেরিয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার ছেলেকে আরোগ্য দান করেন, কিন্তু সে মা তার মানত পুরা করিনি।
একদিন রাতে মা ঘুমালে স্বপ্নে একজন তাকে বলল, তুমি তোমার মা মানত পুরা করো, যাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার প্রতি কঠিন বিপদ না আসে। এরপর যখন সকাল হলো সে তার সন্তানকে ডাকল এবং স্বপ্নের ঘটনা সম্পর্কে অভিহিত করলো। তার জন্য কবরস্থানে একটি কবর খননের এবং সেখানে তাকে দাফনের নির্দেশ দিলো। পুত্র মায়ের নির্দেশ অনুসারে তাই করলো। যখন সে তার মাকে কবরে অবতরণ করলো। তখন তার মা বলল, হে আমার প্রভু! হে আমার মনিব! আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা ব্যয় করে আমার মানত পুরা করেছি। তুমি আমাকে আমার সন্তানকে হেফাজত করো। অতঃপর তার পুত্র কবরের ওপর মাটি দিয়ে চলে গেল। তখন সে তার মাথার দিকে একটি উজ্জ্বল আলো এবং ছোট জানালার মত একটি গর্ত দেখতে পেলো। সে ওই উজ্জ্বল আলো ও ছোট ছিদ্র দিয়ে দিয়ে বাহিরে তাকালে একটি বাগান দেখতে পায়। তাতে দুজন মহিলাকে দেখলো। মহিলা দুজন তাকে বলেন আপনি আমাদের কাছে আসেন, তখন গর্তটি প্রশস্ত হয়ে গেলো এবং সে বাগানে অবস্থিত মহিলা দুজনের নিকট চলে গেলো। হঠাৎ সে বাগানে একটি পরিচ্ছন্ন হাউজ দেখলো দুইজন মহিলা সে হাউজের পাশেই বসে আছে। সে তাদের কাছে বসল এবং তাদের দুজনকে সালাম দিলো। কিন্তু তারা দুজন তার সালামের উত্তর দিল না। সে তাদের কে বলল আমার সালামের উত্তর দিতে তোমাদের কোন জিনিস বাধা দিয়েছে। অথচ তোমরা দুজনেই কথা বলতে সক্ষম তারা বলল, সালাম একটি ইবাদত। আর আমাদেরকে ইবাদত আদায় নিষেধ করা হয়েছে। সে তাদের কাছে বসে আছে, কিছুক্ষণের মধ্যে দুজন মহিলার একজনের মাথার উপর একটি পাখিকে তার দু ডানা দিয়ে বাতাস করতে দেখল। আর অপার মহিলার মাথার উপর আরেকটি পাখিকে তার ঠোঁট দিয়ে মাথায় ঠোকর দিতে দেখলো। সে প্রথম মহিলাকে জিজ্ঞেস করলো তুমি কিসের বিনিময়ে এ মর্যাদা লাভ করলে? মহিলাটি বললো দুনিয়াতে আমার একজন স্বামী ছিলো। আমি তার অনুগত ছিলাম। আমি দুনিয়ায় থেকে বিদায় নিয়েছি এমতাবস্থায় যে তিনি আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। তাই আল্লাহ তা’আলা আমাকে এ মর্যাদা দান করেছেন। সে অন্য মহিলাকে জিজ্ঞেস করল কি কারনে তুমি এ শাস্তি ভোগ করছো? মহিলাটি বলে আমি নেককার ও সতী মহিলা ছিলাম। দুনিয়াতে আমার একজন স্বামী ছিলো। কিন্তু আমি তার অবাধ্য ছিলাম আমি যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছি তিনি তখন আমার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।
তাই আল্লাহ তায়ালা আমার নেক আমলের কারণে আমার কবরকে বাগিচা বানিয়ে দিয়েছেন। আর আমার স্বামীর অসন্তুষ্টির কারণে আমাকে শাস্তি দিয়েছেন। আমি তোমার কাছে আবেদন জানাই যখন তুমি দুনিয়াতে ফিরে যাবে আমার স্বামীর কাছে আমার জন্য সুপারিশ করবে। যাতে তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। যখন সাত দিন অতিবাহিত হয়ে গেলো, তখন মহিলা দুজন তাকে বললো তুমি ওঠো এবং তোমার কবরে প্রবেশ কর। কারণ তোমার পুত্র তোমার খোঁজে এসেছে। যখন সে তার কবরে প্রবেশ করলো দেখলো তার পুত্র কবর খনন করছে। অতঃপর সে তাকে কবর থেকে বের করলো এবং তাকে নিয়ে বাড়িতে চলে গেল। চতুর্দিকে এই সংবাদ মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়লো। যে অমুক এলাকায় একজন নারী তার মানত পুরা করেছে এবং সে দুনিয়াতে ফিরে এসেছে। ফলে লোকেরা তার সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আসলো এবং ওই মহিলার স্বামীও আসলো যে মহিলা তাকে তার স্বামীর কাছে তার জন্য সুপারিশের আবেদন করেছিলো।
অতঃপর সে তাকে তার সংবাদ জানালে তার স্বামী তাকে মাফ করে দিলো।সে মহিলা ওই জান্নাতি মহিলাকে স্বপ্নে দেখলো। মহিলাটি তাকে বললো আমি তোমার উসিলায় শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়েছি। আল্লাহ তাআলা তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তোমাকে মাফ করে দিন। এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা, একটু ভাবুন প্রতিটা মা-বাবা সন্তানের জন্য কত কষ্ট করে! কিন্তু একটা সময় আমরা সেই মা বাবার সাথে দুর্ব্যবহার করি। মা-বাবা আমাদের জান্নাত জাহান্নামে যাওয়ার পথেও। তাই আসুন আমরা মা বাবার সেবাশ্রম করি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করি তাহলে আল্লাহ খুশি হয়ে যাবে। আল্লাহর ইবাদাত বন্দেগির সাথে সাথে স্বামীর খেদমত করি স্বামীর কথা অনুযায়ী চলাফেরা করার চেষ্টা করি। পর্দা পুশিদা অনুযায়ী জীবন যাপন করি। তাহলে জান্নাতে উচু মর্যাদার অধিকারী হতে পারবো। ইনশাআল্লাহ
মুফতি আলাউদ্দীন আল আজাদ, সাতক্ষীরা।
খতিব-কোনাবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ,গাজীপুর।