১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাসিরুদ্দিন পিন্টুর হাত ধরে রাজনীতিতে পথচলা, কে এই ইসহাক সরকারের? 

 

ঢাকাঃ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বংশাল এলাকার অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন হাজী আব্দুল্লাহ সরকার। তাঁর অবদান ও সামাজিক প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে বংশালে একটি লেনের নামকরণ করা হয়েছে “হাজী আব্দুল্লাহ সরকার লেন”—যা আজও পুরান ঢাকার ইতিহাসে তাঁর নামকে অমর করে রেখেছে।

আবার হাজী আব্দুল্লাহ সরকারের দুই পুত্র ছিলেন—

1. হাফেজ আব্দুল লতিফ সরকার
2. মৌলভী আলাবক্স সরকার

এদের মধ্যে মৌলভী আলাবক্স সরকার ছিলেন ব্রিটিশ ভারত আমলের বিশিষ্ট সমাজনেতা। তিনি বাইশ পঞ্চায়েতের সর্দার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা পৌরসভায় টানা ৩৫ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং জনসেবামূলক কাজ পুরান ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

অন্যদিকে, হাফেজ আব্দুল লতিফ সরকার–এর সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন আব্দুর রউফ সরকার। আব্দুর রউফ সরকারের সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম হলেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার—যিনি পুরান ঢাকার এই সম্মানিত ও পুরনো খানদানি পরিবারের উত্তরসূরি।

পুরান ঢাকার বংশাল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়েই মোহাম্মদ ইসহাক সরকার আজকের প্রজন্মের সামনে দাঁড়ানো এক গর্বের নাম।

৩৬৫ মামলার আসামি হয়েও যিনি এলাকা ছাড়েননি…
যাকে গুম করে রাখা হয়েছিল, তবুও যে বংশালের সরকার বাড়ির এই ইসহাকরাই সেই এলাকায় সহ ঢাকায় বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে…
যে ইসহাক সরকারকে ছাত্রদলে ৩ নম্বর, যুবদলেও ৩ নম্বর পদ নিয়েই বিদায় দিয়েছেন…

মূল দলে তাকে কোন জায়গায় রাখা হচ্ছে — তা খালি চোখেই বোঝা যায়।

এই এলাকায় যত নেতাকর্মী আছে, সবাই মিলে যে পরিমাণ মামলা-নির্যাতন সহ্য করেনি — তার চেয়েও বেশি সহ্য করেছে ইসহাক–ইয়াকুবরা। কিন্তু পুরস্কার কে পাচ্ছে? ত্যাগীরা নয়… বরং সুবিধাবাদী, বিতর্কিত চরিত্ররা।

এটা আসলে সরল ভাষায় — রাজনৈতিক অবিচার।
আর কিছু নয়।

ঢাকায় যখন মিছিল করার মতো মানুষ ছিল না, তখন ইসহাক সরকার মিছিল করেছে।
যখন স্লোগান দেওয়ার মতো কর্মী ছিল না, তখন সে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে।
দলের সবচেয়ে কঠিন ঝড়ঝাপটার সময়ে আজকের বহু মুখগুলো হারিয়ে গিয়েছিল — ইসহাক সরকার তখনও রাজপথে ছিল।

আজ যখন বসন্তের কোকিলেরা চারদিকে ডাকাডাকি করছে…
তখন এই ত্যাগী মানুষটার পিঠে দোষারোপ, মিথ্যাচার, অপপ্রচার — সব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মনে রাখবেন ইসহাক সরকারদের গুরুত্ব,দলে এখনও হারিয়ে যায়নি,আবার প্রয়োজন হবে তাদেরকে।

অনলাইনে কিছু গুজববাজ, বিএনপি-সাজার ভঙ্গধারী, দলবিরোধী,আদর্শবিরোধী, ট্রল বাহিনী ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে রটনা ছড়াচ্ছে — অথচ তাদের কেউই কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে না।

তার বিরুদ্ধে দলের মধ্যে শাহবাগী অংশ,অসৎ লোক,নতুন বিএনপি করা আর সুবিধাবাদেরা তাকে মেনে নিতে পারে না।

তার আরেকটি কারণ হলো —
ইসহাক সরকার একজন ধার্মিক, নীতিবান, ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন, চরিত্রবান মানুষ।
দলের ভেতরে যারা এসব মূল্যবোধকে অপছন্দ করে — তারা তাকে সহজভাবে নিতে পারে না।
তারা জানে, এই ধরণের নেতৃত্ব শক্তিশালী হয়ে উঠলে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়।

তাই যারা সত্যিই ত্যাগকে সম্মান করেন, সংগ্রামকে মূল্যায়ন করেন —
তাদের শুধু একটি কথাই বলা যায়:

এই নিয়তি মেনে নেওয়ার সময় এসেছে, কারণ দল যতদিন ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে না— ততদিন রাজনীতির মাঠে বসন্তের কোকিলেরা বিজয়ী থেকেই যাবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

একটি হারানো সংবাদ

নাসিরুদ্দিন পিন্টুর হাত ধরে রাজনীতিতে পথচলা, কে এই ইসহাক সরকারের? 

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ঢাকাঃ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বংশাল এলাকার অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন হাজী আব্দুল্লাহ সরকার। তাঁর অবদান ও সামাজিক প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে বংশালে একটি লেনের নামকরণ করা হয়েছে “হাজী আব্দুল্লাহ সরকার লেন”—যা আজও পুরান ঢাকার ইতিহাসে তাঁর নামকে অমর করে রেখেছে।

আবার হাজী আব্দুল্লাহ সরকারের দুই পুত্র ছিলেন—

1. হাফেজ আব্দুল লতিফ সরকার
2. মৌলভী আলাবক্স সরকার

এদের মধ্যে মৌলভী আলাবক্স সরকার ছিলেন ব্রিটিশ ভারত আমলের বিশিষ্ট সমাজনেতা। তিনি বাইশ পঞ্চায়েতের সর্দার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা পৌরসভায় টানা ৩৫ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং জনসেবামূলক কাজ পুরান ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

অন্যদিকে, হাফেজ আব্দুল লতিফ সরকার–এর সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন আব্দুর রউফ সরকার। আব্দুর রউফ সরকারের সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম হলেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার—যিনি পুরান ঢাকার এই সম্মানিত ও পুরনো খানদানি পরিবারের উত্তরসূরি।

পুরান ঢাকার বংশাল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়েই মোহাম্মদ ইসহাক সরকার আজকের প্রজন্মের সামনে দাঁড়ানো এক গর্বের নাম।

৩৬৫ মামলার আসামি হয়েও যিনি এলাকা ছাড়েননি…
যাকে গুম করে রাখা হয়েছিল, তবুও যে বংশালের সরকার বাড়ির এই ইসহাকরাই সেই এলাকায় সহ ঢাকায় বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে…
যে ইসহাক সরকারকে ছাত্রদলে ৩ নম্বর, যুবদলেও ৩ নম্বর পদ নিয়েই বিদায় দিয়েছেন…

মূল দলে তাকে কোন জায়গায় রাখা হচ্ছে — তা খালি চোখেই বোঝা যায়।

এই এলাকায় যত নেতাকর্মী আছে, সবাই মিলে যে পরিমাণ মামলা-নির্যাতন সহ্য করেনি — তার চেয়েও বেশি সহ্য করেছে ইসহাক–ইয়াকুবরা। কিন্তু পুরস্কার কে পাচ্ছে? ত্যাগীরা নয়… বরং সুবিধাবাদী, বিতর্কিত চরিত্ররা।

এটা আসলে সরল ভাষায় — রাজনৈতিক অবিচার।
আর কিছু নয়।

ঢাকায় যখন মিছিল করার মতো মানুষ ছিল না, তখন ইসহাক সরকার মিছিল করেছে।
যখন স্লোগান দেওয়ার মতো কর্মী ছিল না, তখন সে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে।
দলের সবচেয়ে কঠিন ঝড়ঝাপটার সময়ে আজকের বহু মুখগুলো হারিয়ে গিয়েছিল — ইসহাক সরকার তখনও রাজপথে ছিল।

আজ যখন বসন্তের কোকিলেরা চারদিকে ডাকাডাকি করছে…
তখন এই ত্যাগী মানুষটার পিঠে দোষারোপ, মিথ্যাচার, অপপ্রচার — সব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মনে রাখবেন ইসহাক সরকারদের গুরুত্ব,দলে এখনও হারিয়ে যায়নি,আবার প্রয়োজন হবে তাদেরকে।

অনলাইনে কিছু গুজববাজ, বিএনপি-সাজার ভঙ্গধারী, দলবিরোধী,আদর্শবিরোধী, ট্রল বাহিনী ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে রটনা ছড়াচ্ছে — অথচ তাদের কেউই কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে না।

তার বিরুদ্ধে দলের মধ্যে শাহবাগী অংশ,অসৎ লোক,নতুন বিএনপি করা আর সুবিধাবাদেরা তাকে মেনে নিতে পারে না।

তার আরেকটি কারণ হলো —
ইসহাক সরকার একজন ধার্মিক, নীতিবান, ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন, চরিত্রবান মানুষ।
দলের ভেতরে যারা এসব মূল্যবোধকে অপছন্দ করে — তারা তাকে সহজভাবে নিতে পারে না।
তারা জানে, এই ধরণের নেতৃত্ব শক্তিশালী হয়ে উঠলে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়।

তাই যারা সত্যিই ত্যাগকে সম্মান করেন, সংগ্রামকে মূল্যায়ন করেন —
তাদের শুধু একটি কথাই বলা যায়:

এই নিয়তি মেনে নেওয়ার সময় এসেছে, কারণ দল যতদিন ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে না— ততদিন রাজনীতির মাঠে বসন্তের কোকিলেরা বিজয়ী থেকেই যাবে।