আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

মানিকগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগ নেত্রী সালেহার প্রতারনায় নিস্ব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

মোঃ সায়েদুর রহমান, মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়কের সালেহা আক্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানানোর তদবিরের জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সালেহা মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য মমতাজ বেগমের খুব কাছে আস্থাভাজন পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার টির। টাকা ফেরত দিতে নানা টালবাহানা করছেন। সালেহা ও তার স্বামী শ্রমিক লীগের উপজেলার সহ-সভাপতিসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা যুবক নিয়ে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো কথা না বলতে হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী গীতা সরকার সিংগাইর উপজেলার বায়রা গ্রামের গুরু চন্দ্র সরকারের কন্যা। ২০২১ সালে উপজেলার ধল্লা এলাকার জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালেহা জাহানকে তার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেও ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিচ্ছে না। নানা তালবাহানা করছে।

পাঁচ লাখ টাকা চুক্তিতে এক মাসের মধ্যে গীতার বাবা গুরু চন্দ্র সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন সালেহা। দুই বছর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানানো তো দূরের কথা উল্টো চাপের মুখে রেখেছেন সালেহা। গীতা জানান, তার সত্তর বছর বয়সি বাবা এখনো বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বেহালা বাজিয়ে কোন মতে সংসার চালান। সালেহার ফাঁদে পরে আজ আমরা নিস্ব।

সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সনদ বানানোর কথা বলে টাকা নেওয়া নিন্দনীয়। সালেহার এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। সে এর আগেও এমপি’র নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়েছে। এমপি মমতাজের কাছের মানুষ পরিচয়ে নানা অপকর্ম করছে সালেহা জাহান ও তার স্বামী। শুনেছি সালেহা মধ্যপ্রাচ্যে গৃহ পরিচারিকার কাজে গিয়েছিল সেখান থেকে এসে রাতারাতি যুব-মহিলা লীগের নেত্রী হলেন। জয়িতার সেরা পুরস্কার পেলেন। অথচ সিংগাইর অনেক মেয়ে আছে যারা দীর্ঘ দিন যাবৎ সমাজে ও দলের জন্য কাজ করছে। তাদেরও মূল্যয়ন করা হয়নি।

মুটো ফোনে সালেহা জাহান জানান, মুক্তিযোদ্ধার সনদ বানাতে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং বিষয়টি মিমাংসা করেছি অনেক আগে। তবে, জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহা জাহানের ফোনালাপে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক রোমেজা আক্তার খান মাহিন জানান, যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহা জাহানের এ অপকর্মের দায় দল নেবে না। তিনি বলেন-বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রীকে অবহিত করেছি। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ