আজ ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুন, ২০২৪ ইং

সিংগাইরে ছেলের বউয়ের হাতে শাশুড়ী খুন গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ছেলের বউয়ের হাতে তহুড়া বেগম (৫৫) নামে এক শাশুড়ী খুনের ঘটনা ঘটেছে।
 এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছেলের বউ আইরিন আক্তার (২৫) কে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে  আইরিন তার দোষ  স্বীকার করেছেন এবং আদালতেও তাই বলবেন বলে  জানান  থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার দিনগত রাতে উপজেলার জামশা ইউনিয়নের ছোট বরুন্ডী গ্রামের  সোনামুদ্দীনের বাড়ীতে এঘটনা ঘটে।
বুধবার ভোরে সোনা মুদ্দিনের বাড়ী থেকে নিহতের
মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত তহুড়া বেগম  বরুন্ডী গ্রামের সোনামুদ্দীন বিশ্বাসের স্ত্রী এবং ঘাতক আইরিন আক্তার সোনামুদ্দীন বিশ্বাসের প্রবাসী ছেলে রাসেল বিশ্বাসের স্ত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) এনামুল হক।
এব্যাপারে নিহতের স্বামী  সোনামুদ্দীন বিশাস বলেন, তিন মাস আগে হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আকলির চর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে আইরিন আক্তারের সাথে আমার ছেলে রাসেল বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই ঝিটকা খাঁজা কলেজের এক শিক্ষকের সাথে আইরিনের (প্রেম) মন দেওয়া। নেওয়া ছিলো। এসব বিষয় নিয়ে  গ্রাম্য শালিস বিচারও হয়েছে।  কিছু দিন আগে আমার ছেলে রাসেল মালেশিয়া চলে গেছে। ঘটনার দিন রাত সারে ৭টার দিকে টেলিভিশন দেখতে ছিলাম। এসময় বউ আমাদের দুজনকে গড়ম দুধ খাইতে দেয়। একটু পর আবার চা দেয়। চা খাওয়ার ঘন্টা খানেক পর আমারা ঘুমাইয়া যাই।  রাত একটার দিকে চেতন পেয়ে আমার স্ত্রীকে না দেখে  বাহিরে বের হয়েই দেখি ছেলের বউ ছুড়ি হাতে বাড়ান্দায় দাড়িয়ে আছে। আমি এগিয়ে গেলে  আমাকে ছুড়ি দিয়া আঘাত করতে আসে। পরে আমি ছুড়ি কেরে নেই। এসময় তার হাত এবং ঠোটে খত হয়। বাহিরে বের হয়েই তার স্ত্রীকে মৃত অবস্তায় পড়ে থাকতে দেখে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে ঘাতক আইরিন আকতারকে আটক করে সিংগাইর থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ। ঘটনাস্থলে  এসে লাশ উদ্ধার করে এবং আইরিন আক্তারকে গ্রেফতার করে।
সিংগাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) এনামুল হক বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে বুধবার রাতে চার্জার লাইট দিয়ে শাশুড়ীর মাথায় আঘাত করে তার প্রবাসী ছেলের বউ আইরিন আক্তার (২৫)। এতে করে ঘটনাস্থলেই মারা যান তহুড়া বেগম।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তার ছেলের বউকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম  জানান, রাসেল বিশ্বাস মালেশিয়া থাকেন। ছুটিতে এসে তিনমাস আগে আইরিনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর আইরিনের পরোকিয়ার কথা জান্তে পারে রাসেল। এনিয়ে স্বামী ও  শ্বাশুড়ীর সাথে তার মনমালিন্য দেখা দেয়।   গত ২ ডিসেম্ব রাসেল বিদেশে চলে যায়। কিন্ত প্রেমীক শিক্ষক তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। ঘটনার দিনরাতে এনিয়ে বউ স্বাশুড়ীর মধ্যে  কথা কাটাকাটি হয়। শ্বশুড় ঘুমিয়েছিলো  এই সুযোগে পুত্রবধু টর্চ লাইট দিয়া  শ্বাশুড়ির মাথায় আঘাত করে। চিৎকার দিলে কাপড়দিয়ে মুখ বেঁধে ছুরিদিয়া এলোপাথারীভাবে আঘাতকরে হত্যাকরে। লাশ গুমকরার জন্য ঘরের উঠানে নেওয়ার চেষ্টাকরে। এসময় তার শশুর সোনামুদ্দীন চেতন পেয়ে বাহির হলে তাকেও হত্যার চেষ্টায় এগায়ে আসে। তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধারকরে। এলাকাসী ঘাতক আইরিনকে আটক করে। সংবাদ পেয়ে  থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারসহ  ঘাতক আইরিনকে গ্রেফতার করে।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গেপাঠানো হয়েছে।
এঘটনায়  সোনামুদ্দীন বাদী হয়ে পুত্রবধু ও  হত্যার প্ররোচনাকারী প্রেমীক শিক্ষককে আসামীকরে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে  পুত্রবধু আইরিন আক্তার তার দোষ  স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি জিয়ারুল ইসলাম  জানান।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ