০১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় ঘুমন্ত স্বামীকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেপ্তার

 

মাগুরাঃ মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বি মণ্ডল (৩২) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগমের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারজানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি মণ্ডল পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে রাব্বি ও ফারজানার বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ফারজানা অন্তঃসত্ত্বা বলেও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাব্বি ও ফারজানার মধ্যে কলহ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা রাব্বির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।

নিহতের বাবা নজরুল মণ্ডল বলেন, সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে তিনি শোবার ঘরের খাটের ওপর ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
তাঁর দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে রাব্বি শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গ্রামে গেলে সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকালে ফারজানার বাবা ফয়জার মোবাইল ফোনে রাব্বির পরিবারের সদস্যদের জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়েছে। পরে রাব্বির স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে তাঁর মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার পর ফারজানা শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল এলাকায় বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফারজানার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে শ্রীপুর থানা-পুলিশ আমতৈল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা উদ্ধার করা হয়। মাগুরা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যেও ফারজানাকে আমতৈল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার এবং রক্তমাখা দা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, রাব্বি মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃতদেহ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও জব্দ করেছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মাগুরায় ঘুমন্ত স্বামীকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেপ্তার

মাগুরায় ঘুমন্ত স্বামীকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মাগুরাঃ মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বি মণ্ডল (৩২) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগমের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারজানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি মণ্ডল পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে রাব্বি ও ফারজানার বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ফারজানা অন্তঃসত্ত্বা বলেও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাব্বি ও ফারজানার মধ্যে কলহ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা রাব্বির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।

নিহতের বাবা নজরুল মণ্ডল বলেন, সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে তিনি শোবার ঘরের খাটের ওপর ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
তাঁর দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে রাব্বি শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গ্রামে গেলে সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকালে ফারজানার বাবা ফয়জার মোবাইল ফোনে রাব্বির পরিবারের সদস্যদের জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়েছে। পরে রাব্বির স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে তাঁর মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার পর ফারজানা শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল এলাকায় বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফারজানার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে শ্রীপুর থানা-পুলিশ আমতৈল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা উদ্ধার করা হয়। মাগুরা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যেও ফারজানাকে আমতৈল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার এবং রক্তমাখা দা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, রাব্বি মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃতদেহ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও জব্দ করেছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।