
ঢাকা: প্রবাসীদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির আয়োজনে
আজ মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর বেলা ১১টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকের সামনে এ মানব বন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে এবং বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে।
মানববন্ধনে উপস্থিত হিলেন ফেডারেশনের সভাপতি জনাব ফরিদুল ইসলাম। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ঢাকা জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুন নাহার, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের আশুলিয়া সভাপতি মনসুর আলীসহ বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাঁর বিচার অবশ্যই আইন অনুযায়ী হতে হবে। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি সহায়তা, দোভাষীর সুবিধা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান রেখেই প্রশ্ন তোলা জরুরি-মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং তাঁদের জীবন রক্ষায় কূটনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বাচ্ছ ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি দাবি করেন তাঁরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আইনের শাসন মানে। শাসন মানে শুধু শান্তি নিশ্চিত করা নয়, বরং ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও। প্রবাসী প্রমিকেরা তাঁদের শ্রম ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাই বিদেশে বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহ ১. বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর ও সময়োপযোগী কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
১. মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলায় বিশেষ নজরদারি ও জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
২. বিদেশে বিচারাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা এবং দোভাষীর ব্যবস্থা করতে
সহযোগিতা করতে হবে।
১. সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিদেশে আটক ও বিচারাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে কার্যকর ডিজিটাল কেস স্লট্র্যাকিং
ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ৬. প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁরা কোনো অপরাধকে আড়াল করতে চান না। বরং প্রতিটি মামলায় আইনসম্মত বিচার, ন্যায়বিচার এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যেন বিদেশের মাটিতে আইনি জটিলতার মুখে অসহায় হয়ে পড়ে নিজের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁরা বলেন, প্রবাসীয়া শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যম নন। তাঁরা দেশের নাগরিক, তাঁদেরও রয়েছে জীবন, মর্যাদা ও অধিকার। তাই প্রবাসীদের বিপদের সময় রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে পাশে দাঁড়াতে পারে, সেই প্রশ্নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানানো হয়।
মশিউর রহমান লিজেন, স্টাফ রিপোর্টার 

















