০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে একাধিক পেশায় কাজী আব্দুস সালাম,তদন্ত শুরু

লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাট জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুস সালাম এর বিরুদ্ধে শিক্ষকতাসহ একাধিক লাভজনক পেশার পাশাপাশি গোকুন্ডা ইউনিয়নের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট গোকুন্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়জুল হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর জেলা কাজি সমিতির সভাপতি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে সুত্রে জানা যায , আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ইনডেক্স নম্বর R841114। একই সঙ্গে তিনি সরকার অনুমোদিত ‘আল আকসা ট্রাভেল’ নামের একটি হজ্ব এজেন্সির (নিবন্ধন নম্বর ১৪৩৫) মালিক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ব্যবসায়িক কাজে বেশিরভাগ সময় কাজী আব্দুস সালাম মক্কা-মদিনায় অবস্থান করেন।ফলে কলেজে নিয়মিত পাঠদান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনে প্রভাব পড়ছে।

একই ব্যক্তি একাধিক পেশায় যুক্ত থাকায় কোনো দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত কার্যক্রমেও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়া তদন্তের জন্য চিঠি দেন। এতে ঘটনা তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজী আব্দুস সালামের মত এমন অভিযোগ এ জেলায় আরও ১৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। তারাও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের অনেকেই সহকারী কাজির মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের কাজ করায় বাল্যবিয়েসহ বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী আব্দুস সালাম এর সাথে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক স্কুল শাখা) রোকসানা বেগম বলেন, কলেজ শাখা থেকে এ ধরনের একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি পরিচালক তদন্ত করবেন। স্কুল ও মাদ্রাসায় কর্মরত ব্যক্তিদের একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজী আব্দুস সালাম একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগের ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত।

Tag :
About Author Information

মাগুরায় প্রথম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

লালমনিরহাটে একাধিক পেশায় কাজী আব্দুস সালাম,তদন্ত শুরু

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:২৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাট জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুস সালাম এর বিরুদ্ধে শিক্ষকতাসহ একাধিক লাভজনক পেশার পাশাপাশি গোকুন্ডা ইউনিয়নের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট গোকুন্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়জুল হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর জেলা কাজি সমিতির সভাপতি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে সুত্রে জানা যায , আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ইনডেক্স নম্বর R841114। একই সঙ্গে তিনি সরকার অনুমোদিত ‘আল আকসা ট্রাভেল’ নামের একটি হজ্ব এজেন্সির (নিবন্ধন নম্বর ১৪৩৫) মালিক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ব্যবসায়িক কাজে বেশিরভাগ সময় কাজী আব্দুস সালাম মক্কা-মদিনায় অবস্থান করেন।ফলে কলেজে নিয়মিত পাঠদান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনে প্রভাব পড়ছে।

একই ব্যক্তি একাধিক পেশায় যুক্ত থাকায় কোনো দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত কার্যক্রমেও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়া তদন্তের জন্য চিঠি দেন। এতে ঘটনা তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজী আব্দুস সালামের মত এমন অভিযোগ এ জেলায় আরও ১৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। তারাও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের অনেকেই সহকারী কাজির মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের কাজ করায় বাল্যবিয়েসহ বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী আব্দুস সালাম এর সাথে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক স্কুল শাখা) রোকসানা বেগম বলেন, কলেজ শাখা থেকে এ ধরনের একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি পরিচালক তদন্ত করবেন। স্কুল ও মাদ্রাসায় কর্মরত ব্যক্তিদের একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজী আব্দুস সালাম একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগের ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত।