০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএনডি খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ, নেপথ্যে ভাঙ্গারি কুদ্দুস

নারায়ণগঞ্জঃ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের খাল দখল ও ভরাটের মহোৎসব থামছেই না। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি খালের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভরাট করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের এক নেতা ও একটি চিহ্নিত চক্রের বিরুদ্ধে।

সরকারি খাল উদ্ধার ও সংস্কারের পর নতুন করে এ দখলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নাসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল-ডেমরা সড়কের বিদ্যুৎ ব্লেড কোম্পানির সামনের ডিএনডি খালের একটি অংশ বাঁশের খুঁটি পুতে এবং বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে।

আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাত দৈর্ঘ্য এবং ১০ থেকে ১৫ হাত প্রস্থের এই বিশাল জায়গাটি দখল করে নতুন করে ভাঙ্গারী দোকান নির্মাণের তোড়জোড় চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের নেতা সিফাতুর রহমান রাজুর সরাসরি যোগসাজশ ও রাজনৈতিক ইন্দনে চোরাই ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী কুদ্দুস এবং চোরাই তেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন এই দখল বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।

ইতোমধ্যেই ডিএনডি খালের ওই অংশে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের অগ্রিম জামানত ও মাসিক ভাড়া হাঁকাচ্ছেন কুদ্দুস ও তাঁর চক্রটি। আর এই অবৈধ আয় থেকে মোটা অঙ্কের ভাগ চলে যাচ্ছে ছাত্রদল নেতা রাজুর পকেটে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামসেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সংকুচিত করে যেভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সিফাতুর রহমান রাজু বলেন, কুদ্দুস নামের এক লোক এখানে একটি ভাঙ্গারী দোকানঘর নির্মাণ করবে বলে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল।

এদিকে প্রধান অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়া দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দোকান ঘর তোলার জন্য কাজ করিনি। মূলত সেখানে সবজি চাষের উদ্দেশ্যে বাঁশের খুঁটি ও বালু দিয়ে জায়গাটি ভরাট করেছি।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রদল নেতা রাজুর ইন্দনেই নতুন করে দোকান দিচ্ছেন কুদ্দুস রাজুকে ম্যানেজ করেই এই দখল চলছে কারণ কুদ্দুস রাজুর লোক। খালের ওপর কুদ্দুসের ইতোমধ্যে ৮-১০টি দোকান রয়েছে, যেগুলোর ভাড়া নিয়মিত রাজুর কাছে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৪ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মো. ইমরান হোসেন জানান, এই খালের অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয় এটি সম্পূর্ণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আলম রাজিব জানান, ডিএনডি খালের প্রায় ৫০ শতাংশ জায়গা আমাদের এবং বাকি অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের। সওজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রহিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডিএনডি খাল ভরাটের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অবৈধ দখল বন্ধে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

দেশে সারের কোনো সংকট নেই : শান্ত এমপি

ডিএনডি খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ, নেপথ্যে ভাঙ্গারি কুদ্দুস

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জঃ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের খাল দখল ও ভরাটের মহোৎসব থামছেই না। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি খালের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভরাট করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের এক নেতা ও একটি চিহ্নিত চক্রের বিরুদ্ধে।

সরকারি খাল উদ্ধার ও সংস্কারের পর নতুন করে এ দখলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নাসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল-ডেমরা সড়কের বিদ্যুৎ ব্লেড কোম্পানির সামনের ডিএনডি খালের একটি অংশ বাঁশের খুঁটি পুতে এবং বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে।

আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাত দৈর্ঘ্য এবং ১০ থেকে ১৫ হাত প্রস্থের এই বিশাল জায়গাটি দখল করে নতুন করে ভাঙ্গারী দোকান নির্মাণের তোড়জোড় চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের নেতা সিফাতুর রহমান রাজুর সরাসরি যোগসাজশ ও রাজনৈতিক ইন্দনে চোরাই ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী কুদ্দুস এবং চোরাই তেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন এই দখল বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।

ইতোমধ্যেই ডিএনডি খালের ওই অংশে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের অগ্রিম জামানত ও মাসিক ভাড়া হাঁকাচ্ছেন কুদ্দুস ও তাঁর চক্রটি। আর এই অবৈধ আয় থেকে মোটা অঙ্কের ভাগ চলে যাচ্ছে ছাত্রদল নেতা রাজুর পকেটে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামসেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সংকুচিত করে যেভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সিফাতুর রহমান রাজু বলেন, কুদ্দুস নামের এক লোক এখানে একটি ভাঙ্গারী দোকানঘর নির্মাণ করবে বলে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল।

এদিকে প্রধান অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়া দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দোকান ঘর তোলার জন্য কাজ করিনি। মূলত সেখানে সবজি চাষের উদ্দেশ্যে বাঁশের খুঁটি ও বালু দিয়ে জায়গাটি ভরাট করেছি।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রদল নেতা রাজুর ইন্দনেই নতুন করে দোকান দিচ্ছেন কুদ্দুস রাজুকে ম্যানেজ করেই এই দখল চলছে কারণ কুদ্দুস রাজুর লোক। খালের ওপর কুদ্দুসের ইতোমধ্যে ৮-১০টি দোকান রয়েছে, যেগুলোর ভাড়া নিয়মিত রাজুর কাছে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৪ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মো. ইমরান হোসেন জানান, এই খালের অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয় এটি সম্পূর্ণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আলম রাজিব জানান, ডিএনডি খালের প্রায় ৫০ শতাংশ জায়গা আমাদের এবং বাকি অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের। সওজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রহিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডিএনডি খাল ভরাটের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অবৈধ দখল বন্ধে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।