
জাবিঃ ‘পৃথিবীটা একদিন বাউলের হবে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘বাউল বিসর্গ’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে টিএসসিভুক্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুস্বর’-এর আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলার লোকসংগীত, বাউল দর্শনের গভীরতর উপলব্ধি এবং লোকসংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরির লক্ষ্যেই মূলত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উৎসবে ‘সুস্বর’-এর শিল্পীদের পাশাপাশি পালাগান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত দেওয়ান ঘরানার লোকসংগীতশিল্পী খালেক দেওয়ান ও তাঁর দল। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী দীপাঞ্জন পাল, বাংলাদেশের নজরুলসংগীতশিল্পী ও সুস্বরের সাবেক কর্মী শুভ কর্মকার, পঞ্চকবি ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হর্ষ মুখোপাধ্যায়, এসরাজশিল্পী সৌমিত রায় এবং তালযন্ত্রশিল্পী সহন দেওয়ান।
এ ছাড়া উৎসবে বাউল দর্শন নিয়ে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির রায়হান (রায়হান রাইন) এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রভাষক নাহিদুল হাসান নাঈম।
অনুষ্ঠানের বিষয়ে সুস্বরের প্রচার সম্পাদক শেমন্তি রোদসী বলেন, “বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের একটি কথা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা এই প্রতিপাদ্যটি বেছে নিয়েছি। বাউল দর্শন এত বিশাল যে, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তা পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবুও আজকে যতটুকু সম্ভব আমরা গানের মধ্য দিয়ে এই চিরায়ত দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি আমাদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল পঞ্চকবির (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুলপ্রসাদ সেন) গানে যে বাউল ভাবনা রয়েছে, তা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শুদ্ধ সংগীত প্রসারের অঙ্গীকার নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সুস্বর’ এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিসরে নিয়মিত সংগীতচর্চা ও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ 






















