১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১৯: স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে প্রচার শুরু এনসিপি প্রার্থীর, নিয়েছেন জামায়াত নেতার দোয়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকাঃ ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন এনসিপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের নির্বাচনী অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

দিলশানা পারুল বলেন, “জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, জুলাইয়ে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন-তাদের সবাইকে আমরা স্মরণ করেছি। আজ শ্রদ্ধাভরে আমি স্মরণ করতে চাই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য ১৯৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল মহান আত্মাদের।”

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে সরে যাওয়া জামায়াত নেতা আফজাল হোসেনের দোয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং আফজাল হোসেন একজন বিজ্ঞ ও শ্রদ্ধাশীল নেতা হিসেবে সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার দোয়া নিয়েই মাঠে নামাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে দিলশানা পারুল বলেন, সাভার ও আশুলিয়াবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করাই তার মূল লক্ষ্য।

“সাভার ও আশুলিয়ায় যে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি চলছে, তা বন্ধ করাই হবে আমার প্রথম ম্যান্ডেট। নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করব,” বলেন তিনি।

তার দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন রাস্তাঘাটের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি। পাশাপাশি জামগড়সহ চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলো সংস্কার করাকেও তিনি অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হিসেবে উল্লেখ করেন।

বংশী ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়েও কথা বলেন দিলশানা পারুল।

তিনি জানান, এই দুই নদীর দূষণ বন্ধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে নদীর দুই পাড়ে সাভার-আশুলিয়াবাসী পরিবার ও শিশুদের নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে পারেন।

শিল্পাঞ্চল হিসেবে সাভার-আশুলিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এলাকাটিকে শ্রমিকবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

“শ্রমিক, মালিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ ও মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে চাই,” বলেন তিনি।

দিলশানা পারুল জানান, এদিনের কর্মসূচি ছিল এনসিপির একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম। সে কারণে জোটের অন্য দলগুলোর আলাদা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ না থাকলেও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, মাঠে নামার পর জনগণের সাড়া তাকে আশাবাদী করেছে। বিশেষ করে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণায় মানুষের আগ্রহ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া সাভার-আশুলিয়ার সংসদীয় আসনে প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে নারী ভোটারদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছেন, তা তাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বলেও জানান দিলশানা পারুল।

তার সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু, জনতার ঢল

ঢাকা-১৯: স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে প্রচার শুরু এনসিপি প্রার্থীর, নিয়েছেন জামায়াত নেতার দোয়া

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ঢাকাঃ ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন এনসিপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের নির্বাচনী অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

দিলশানা পারুল বলেন, “জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, জুলাইয়ে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন-তাদের সবাইকে আমরা স্মরণ করেছি। আজ শ্রদ্ধাভরে আমি স্মরণ করতে চাই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য ১৯৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল মহান আত্মাদের।”

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে সরে যাওয়া জামায়াত নেতা আফজাল হোসেনের দোয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং আফজাল হোসেন একজন বিজ্ঞ ও শ্রদ্ধাশীল নেতা হিসেবে সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার দোয়া নিয়েই মাঠে নামাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে দিলশানা পারুল বলেন, সাভার ও আশুলিয়াবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করাই তার মূল লক্ষ্য।

“সাভার ও আশুলিয়ায় যে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি চলছে, তা বন্ধ করাই হবে আমার প্রথম ম্যান্ডেট। নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করব,” বলেন তিনি।

তার দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন রাস্তাঘাটের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি। পাশাপাশি জামগড়সহ চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলো সংস্কার করাকেও তিনি অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হিসেবে উল্লেখ করেন।

বংশী ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়েও কথা বলেন দিলশানা পারুল।

তিনি জানান, এই দুই নদীর দূষণ বন্ধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে নদীর দুই পাড়ে সাভার-আশুলিয়াবাসী পরিবার ও শিশুদের নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে পারেন।

শিল্পাঞ্চল হিসেবে সাভার-আশুলিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এলাকাটিকে শ্রমিকবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

“শ্রমিক, মালিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ ও মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে চাই,” বলেন তিনি।

দিলশানা পারুল জানান, এদিনের কর্মসূচি ছিল এনসিপির একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম। সে কারণে জোটের অন্য দলগুলোর আলাদা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ না থাকলেও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, মাঠে নামার পর জনগণের সাড়া তাকে আশাবাদী করেছে। বিশেষ করে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণায় মানুষের আগ্রহ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া সাভার-আশুলিয়ার সংসদীয় আসনে প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে নারী ভোটারদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছেন, তা তাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বলেও জানান দিলশানা পারুল।

তার সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।