০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শার্শায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ!

 

যশোরঃ যশোরের শার্শায় গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিলন হোসেন দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার ১নং ডিহি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ এবং গুরুত্বপুর্ন কাজ তিনি করিয়ে দেন। বিনিময়ে প্রতারণার হাতিয়ে নিতেন হাজার হাজার টাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে না দিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে প্রতারণা করতেন সাধারণ মানুষের সাথে। এজন্য এলাকায় তিনি চিটার মিলন নামে অধিক পরিচিত।

সম্প্রতি সময়ে জৈনক এক ব্যক্তির সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে গেলে তাকে বলা হয় তাদের স্বামী-স্ত্রী দুইজনের জন্মনিবন্ধন আগে করতে হবে। এর জন্য তাকে ২,৫০০ টাকা দিতে হবে। পরে কাজ করে দেয়ার শর্তে ওই ব্যক্তি টাকাও দেন মিলনকে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও ঐ ব্যক্তি তার জন্মনিবন্ধন দুটি না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আবেদন করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলামের কাছে।

ঘটনা এখানেই শেষ নয় অন্য জৈনক আর এক ব্যক্তির সাথে মিলনের চুক্তি হয় জন্মনিবন্ধনে বয়স সংশোধন করে আইডি কার্ড করে দেয়ার। ঐ ব্যক্তির ভাষ্য মতে সে মিলনকে দিয়েছে ৪,৫০০ টাকা। এদিকে গর্ভবতী কার্ড করে দেয়ার জন্য বেলতা গ্রামের দুইটা পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছেন ৭,০০০ হাজার টাকা। অনেক দিন পার হওয়ার পর যখন কার্ড করতে ব্যর্থ হন। তখন মিলনের তার কাছ থেকে টাকা ফেরত নেয়ার চেষ্টা করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। মিলন তাদের পরিবারের লোকজনকে সোনালী ব্যাংকের একটি চেক দেন। ওই চেকের পাতা নিয়ে ব্যাংকে গেলে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই। শেষে নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে জমা রাখা চারটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল এর আবেদনপত্র ও ৪০,০০০/- চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে শার্শার উদ্দ্যেশ্যে বের হন মিলন হোসেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত সে লাপাত্তা। তার কোন খোঁজখবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর আগেও সে দুইবার একই ধরনের প্রতারনার জন্য চাকরীচ্যুত হতে চলেছিলেন। কিন্তু তার পরিবারের কথা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন বলে জানা যায়।

ডিহি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি করিমুল শেখ বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজের প্রতি আস্থা নষ্ট করে এবং নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। সরকারের উচিত এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জনগণের নিরাপত্তা ও সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।

এবিষয়ে ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলাম বলেন, গ্রাম পুলিশ মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি এবং নোটিশের মাধ্যমে তাকে ৭দিন সময় দেয়া হয়েছিলো। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরেও সে অফিসে আসেনি। পরবর্তীতে আমরা তার অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে এবং সে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে সে পলাতক আছে এবং তার বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শার্শায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ!

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

যশোরঃ যশোরের শার্শায় গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিলন হোসেন দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার ১নং ডিহি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ এবং গুরুত্বপুর্ন কাজ তিনি করিয়ে দেন। বিনিময়ে প্রতারণার হাতিয়ে নিতেন হাজার হাজার টাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে না দিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে প্রতারণা করতেন সাধারণ মানুষের সাথে। এজন্য এলাকায় তিনি চিটার মিলন নামে অধিক পরিচিত।

সম্প্রতি সময়ে জৈনক এক ব্যক্তির সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে গেলে তাকে বলা হয় তাদের স্বামী-স্ত্রী দুইজনের জন্মনিবন্ধন আগে করতে হবে। এর জন্য তাকে ২,৫০০ টাকা দিতে হবে। পরে কাজ করে দেয়ার শর্তে ওই ব্যক্তি টাকাও দেন মিলনকে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও ঐ ব্যক্তি তার জন্মনিবন্ধন দুটি না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আবেদন করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলামের কাছে।

ঘটনা এখানেই শেষ নয় অন্য জৈনক আর এক ব্যক্তির সাথে মিলনের চুক্তি হয় জন্মনিবন্ধনে বয়স সংশোধন করে আইডি কার্ড করে দেয়ার। ঐ ব্যক্তির ভাষ্য মতে সে মিলনকে দিয়েছে ৪,৫০০ টাকা। এদিকে গর্ভবতী কার্ড করে দেয়ার জন্য বেলতা গ্রামের দুইটা পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছেন ৭,০০০ হাজার টাকা। অনেক দিন পার হওয়ার পর যখন কার্ড করতে ব্যর্থ হন। তখন মিলনের তার কাছ থেকে টাকা ফেরত নেয়ার চেষ্টা করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। মিলন তাদের পরিবারের লোকজনকে সোনালী ব্যাংকের একটি চেক দেন। ওই চেকের পাতা নিয়ে ব্যাংকে গেলে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই। শেষে নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে জমা রাখা চারটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল এর আবেদনপত্র ও ৪০,০০০/- চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে শার্শার উদ্দ্যেশ্যে বের হন মিলন হোসেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত সে লাপাত্তা। তার কোন খোঁজখবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর আগেও সে দুইবার একই ধরনের প্রতারনার জন্য চাকরীচ্যুত হতে চলেছিলেন। কিন্তু তার পরিবারের কথা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন বলে জানা যায়।

ডিহি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি করিমুল শেখ বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজের প্রতি আস্থা নষ্ট করে এবং নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। সরকারের উচিত এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জনগণের নিরাপত্তা ও সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।

এবিষয়ে ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলাম বলেন, গ্রাম পুলিশ মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি এবং নোটিশের মাধ্যমে তাকে ৭দিন সময় দেয়া হয়েছিলো। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরেও সে অফিসে আসেনি। পরবর্তীতে আমরা তার অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে এবং সে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে সে পলাতক আছে এবং তার বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।