০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে পিআইওর অনিয়ম ও কমিশন বানিজ্য

সাতক্ষীরাঃ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাজহানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যর তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

কমিশন ছাড়া প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর করেন না তিনি।
উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে টিআর ৫৩ টি,কাবিটা -৪২টি এবং কাবিখা -২৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দকৃত এসব প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য প্রতিটি প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ৫০% বিলও প্রদান করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশনা ছিলো গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই করা হয়নি। কিছু প্রকল্পের কাজ হলেও হয়েছে নামমাত্র। প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রকল্পের নাম,ব্যয়,বাস্তবায়নকারী ও সময়কাল উল্লেখ করার কথা যাতে জনসাধারণ প্রকল্প সম্পর্কে জানে এবং তদারকি করতে পারে। কিন্তু উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের লোক দেখানো কয়েকটি প্রকল্পে সাইনবোর্ড দিলেওে বেশিরভাগ প্রকল্প এলাকাতেই সাইনবোর্ডের কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।

এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের সাইনবোর্ড না থাকা মানেই সাধারণ মানুষের জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং স্বচ্ছতা লঙ্ঘন। তাছাড়া প্রকল্পের তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করারও নির্দেশনা থাকলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো প্রকল্প তালিকা খুজে পাওয়া যায়নি। প্রতিটি প্রকল্প স্থানে অতিদ্রুত সাইনবোর্ড টানানোর বিষয়টি নিশ্চিতকরণসহ প্রকল্পের সব তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার দাবি জানান সচেতন মহল।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের হাতে থাকলেও প্রকল্পগুলো নিয়মিত তদারকি করার কথা উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমিশন বাণিজ্যর কারনে প্রকল্পগুলো তদারকি করেন দায়সাড়াভাবে ।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পিআইও অফিসে প্রকল্পের বিল জমা দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০% কমিশনসহ স্টিমিট ২ হাজার,সাইনবোর্ড ১ হাজার,মাষ্টারোল ২ থেকে ৩ হাজার,স্টাম্প ১ হাজার,ব্যাংক ২০০ ,ট্রেজারী ৫০০ এবং কোন প্রকল্পের কাজ না হলে ২৯% সহ অডিট করা বাবদ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করেন। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম না মেনে প্রকল্পগুলোতে ভ্যাট ও আয়কর বাধ্যতামূলক না থাকলেও সেটার জন্যও পিআইও অফিস প্রতিটি প্রকল্পের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কেটে নেন।

অপরদিকে এইচবিবি করন পুর্বের কাজ করা থাকলেও গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ওই একই রাস্তায় ১০০ মিটার এইচবিবি করনে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। কাজ করা সেই রাস্তাটিরও কমিশনের বিনিময় ৫০% বিল প্রদান করেন পিআইও। অনুসন্ধানের পর বিভিন্ন পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির পর অবশেষে ১০০ মিটারের পরিবর্তে ২০ মিটার কাজ শুরু করলেও বাকী ৮০ মিটারের বরাদ্দর অর্থ পিআইওর পকেটে নাকি অন্য কারও পকেটে? প্রশ্ন থেকেই যায়। উক্ত রাস্তায় কাজ শুরু করার বিষয়টি জানেন না প্রকল্পের সভাপতি।

এ বিষয় জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাজহানুর রহমানের মোবাইল ফোনে বিকেল ৪ টা ৪৮ থেকে ৪টা ৫৬ মিনিট পযন্ত একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের কাজ একশো মিটারের পরিবর্তে বিশ মিটার কাজ করার বিষয়টি আমার জানা নেই এবং কমিশন বানিজ্যর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পিআইওর এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা ভেবেছিলেন অনিয়ম বন্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবে অনিয়ম ও দুর্নীতি আগের মতোই চলছে। এসব অনিয়মের জন্য আদৌ কি কেউ শাস্তি পাবে? নাকি পুরোনো কাহিনী আবার নতুন করে লেখা হবে?

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

আপু বলায় ক্ষেপে গেলেন কালীগঞ্জের ইউএনও

কালীগঞ্জে পিআইওর অনিয়ম ও কমিশন বানিজ্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরাঃ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাজহানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যর তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

কমিশন ছাড়া প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর করেন না তিনি।
উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে টিআর ৫৩ টি,কাবিটা -৪২টি এবং কাবিখা -২৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দকৃত এসব প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য প্রতিটি প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ৫০% বিলও প্রদান করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশনা ছিলো গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই করা হয়নি। কিছু প্রকল্পের কাজ হলেও হয়েছে নামমাত্র। প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রকল্পের নাম,ব্যয়,বাস্তবায়নকারী ও সময়কাল উল্লেখ করার কথা যাতে জনসাধারণ প্রকল্প সম্পর্কে জানে এবং তদারকি করতে পারে। কিন্তু উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের লোক দেখানো কয়েকটি প্রকল্পে সাইনবোর্ড দিলেওে বেশিরভাগ প্রকল্প এলাকাতেই সাইনবোর্ডের কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।

এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের সাইনবোর্ড না থাকা মানেই সাধারণ মানুষের জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং স্বচ্ছতা লঙ্ঘন। তাছাড়া প্রকল্পের তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করারও নির্দেশনা থাকলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো প্রকল্প তালিকা খুজে পাওয়া যায়নি। প্রতিটি প্রকল্প স্থানে অতিদ্রুত সাইনবোর্ড টানানোর বিষয়টি নিশ্চিতকরণসহ প্রকল্পের সব তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার দাবি জানান সচেতন মহল।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের হাতে থাকলেও প্রকল্পগুলো নিয়মিত তদারকি করার কথা উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমিশন বাণিজ্যর কারনে প্রকল্পগুলো তদারকি করেন দায়সাড়াভাবে ।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পিআইও অফিসে প্রকল্পের বিল জমা দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০% কমিশনসহ স্টিমিট ২ হাজার,সাইনবোর্ড ১ হাজার,মাষ্টারোল ২ থেকে ৩ হাজার,স্টাম্প ১ হাজার,ব্যাংক ২০০ ,ট্রেজারী ৫০০ এবং কোন প্রকল্পের কাজ না হলে ২৯% সহ অডিট করা বাবদ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করেন। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম না মেনে প্রকল্পগুলোতে ভ্যাট ও আয়কর বাধ্যতামূলক না থাকলেও সেটার জন্যও পিআইও অফিস প্রতিটি প্রকল্পের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কেটে নেন।

অপরদিকে এইচবিবি করন পুর্বের কাজ করা থাকলেও গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ওই একই রাস্তায় ১০০ মিটার এইচবিবি করনে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। কাজ করা সেই রাস্তাটিরও কমিশনের বিনিময় ৫০% বিল প্রদান করেন পিআইও। অনুসন্ধানের পর বিভিন্ন পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির পর অবশেষে ১০০ মিটারের পরিবর্তে ২০ মিটার কাজ শুরু করলেও বাকী ৮০ মিটারের বরাদ্দর অর্থ পিআইওর পকেটে নাকি অন্য কারও পকেটে? প্রশ্ন থেকেই যায়। উক্ত রাস্তায় কাজ শুরু করার বিষয়টি জানেন না প্রকল্পের সভাপতি।

এ বিষয় জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাজহানুর রহমানের মোবাইল ফোনে বিকেল ৪ টা ৪৮ থেকে ৪টা ৫৬ মিনিট পযন্ত একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের কাজ একশো মিটারের পরিবর্তে বিশ মিটার কাজ করার বিষয়টি আমার জানা নেই এবং কমিশন বানিজ্যর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পিআইওর এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা ভেবেছিলেন অনিয়ম বন্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবে অনিয়ম ও দুর্নীতি আগের মতোই চলছে। এসব অনিয়মের জন্য আদৌ কি কেউ শাস্তি পাবে? নাকি পুরোনো কাহিনী আবার নতুন করে লেখা হবে?