০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আপু বলায় ক্ষেপে গেলেন কালীগঞ্জের ইউএনও

লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে এক অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে গবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে শেষ হওয়ায় রাত প্রায় ১২টার দিকে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান।

ফোনালাপের এক পর্যায়ে অনুষ্ঠান দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেহেরবান মিঠু বলেন, এখনই শেষ হয়ে যাবে, আপু। অভিযোগ উঠেছে, এই ‘আপু’ সম্বোধনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। ফোনালাপের একটি অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, আমি আপনার আপু নই, ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না।

ইউএনওর কঠোর বক্তব্যের মুখে মেহেরবান মিঠু তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে আমি “আপু” বলেছিলাম। এতে তিনি এতটা ক্ষুব্ধ হবেন, তা কল্পনাও করিনি। বিষয়টি আমাদের ব্যথিত করেছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, যার অনুমতি ছিল না। তাই প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে আমি কেবল অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে বলেছি। পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক নেটিজেন মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি প্রচলিত ও সম্মানসূচক সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, জনগণের সেবক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও সংযত ও সহনশীল আচরণ করা উচিত।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বিজিবির অভিযানে সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ

আপু বলায় ক্ষেপে গেলেন কালীগঞ্জের ইউএনও

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে এক অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে গবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে শেষ হওয়ায় রাত প্রায় ১২টার দিকে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান।

ফোনালাপের এক পর্যায়ে অনুষ্ঠান দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেহেরবান মিঠু বলেন, এখনই শেষ হয়ে যাবে, আপু। অভিযোগ উঠেছে, এই ‘আপু’ সম্বোধনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। ফোনালাপের একটি অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, আমি আপনার আপু নই, ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না।

ইউএনওর কঠোর বক্তব্যের মুখে মেহেরবান মিঠু তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে আমি “আপু” বলেছিলাম। এতে তিনি এতটা ক্ষুব্ধ হবেন, তা কল্পনাও করিনি। বিষয়টি আমাদের ব্যথিত করেছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, যার অনুমতি ছিল না। তাই প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে আমি কেবল অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে বলেছি। পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক নেটিজেন মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি প্রচলিত ও সম্মানসূচক সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, জনগণের সেবক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও সংযত ও সহনশীল আচরণ করা উচিত।