১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুরে বালুমহালের সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন, ড্রেজার উল্টে কর্মচারী নিখোঁজ

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সময় দুর্ঘটনায় জুলহাস (নাম) নামে এক ড্রেজার কর্মচারী নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আজিমনগর এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝখানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেড লোড ড্রেজারকে ধাক্কা দিলে ড্রেজারটি উল্টে যায়। এ সময় ড্রেজারে থাকা কর্মচারী জুলহাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি চলছে।

নিখোঁজ জুলহাস মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির ছেলে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের দাবি, সীমানার বাইরে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে বালু উত্তোলনের সময় বাল্কহেডের ধাক্কায় লোড ড্রেজারটি উল্টে যায়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পদ্মা নদীতে বালুমহালের সীমানা অতিক্রম করে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে একদিকে নদীর তীর ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিখোঁজ জুলহাসকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিখোঁজ জুলহাসের বড় ভাই রউফ মিয়া বলেন, “লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার বিল্লাল খানের বালুমহালে কাজ করতে এসে আমার ভাই নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় আমি হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ইজারাদারের পক্ষের লোকজন আমাকে বলেছেন, যেহেতু আমার ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে তারা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে দেখবেন।”

এ বিষয়ে ইজারাদার বিল্লাল খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, নিখোঁজের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি; তারা একটি জিডি করেছেন। ওই জিডির ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।

বালুমহালের সীমানার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে নিখোঁজের ঘটনাটির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

হরিরামপুরে বালুমহালের সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন, ড্রেজার উল্টে কর্মচারী নিখোঁজ

হরিরামপুরে বালুমহালের সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন, ড্রেজার উল্টে কর্মচারী নিখোঁজ

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সময় দুর্ঘটনায় জুলহাস (নাম) নামে এক ড্রেজার কর্মচারী নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আজিমনগর এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝখানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেড লোড ড্রেজারকে ধাক্কা দিলে ড্রেজারটি উল্টে যায়। এ সময় ড্রেজারে থাকা কর্মচারী জুলহাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি চলছে।

নিখোঁজ জুলহাস মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির ছেলে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের দাবি, সীমানার বাইরে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে বালু উত্তোলনের সময় বাল্কহেডের ধাক্কায় লোড ড্রেজারটি উল্টে যায়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পদ্মা নদীতে বালুমহালের সীমানা অতিক্রম করে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে একদিকে নদীর তীর ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিখোঁজ জুলহাসকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিখোঁজ জুলহাসের বড় ভাই রউফ মিয়া বলেন, “লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার বিল্লাল খানের বালুমহালে কাজ করতে এসে আমার ভাই নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় আমি হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ইজারাদারের পক্ষের লোকজন আমাকে বলেছেন, যেহেতু আমার ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে তারা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে দেখবেন।”

এ বিষয়ে ইজারাদার বিল্লাল খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, নিখোঁজের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি; তারা একটি জিডি করেছেন। ওই জিডির ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।

বালুমহালের সীমানার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে নিখোঁজের ঘটনাটির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।