০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জানাযার নামাজে সুরা ফাতেহা পড়া

 

ইসলামঃ জানাজার নামাজে সূরা ফাতিহা পড়া সম্পর্কে
. জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার প্রয়োজন আছে কিনা এ ব্যাপারে ফকিগণের সামান্য ইখতেলাফ রয়েছে। নিম্নে দলিল সহ তা উল্লেখ করা হলো:-

দলিল-১
ইমাম আবু হানিফা রহ. ইবনে ওমর র.আবু হুরায়রা ও ফাযালা ইবনে ওবায়েদ র. এর মতে জানাজার সালাতের সূরা ফাতেহা পড়ার প্রয়োজন নেই। বরং শুধু দোয়াই যথেষ্ট তারা এর পক্ষে নিম্নে দলিল সমূহ উল্লেখ করেন।
عن ابي هريره رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مع النجاشي في اليوم الذي مات فيه، اخرج بهم الى المصلى، فصف بهم،وكبر عليه اربع تكبيرات
হযরত আবু হোরায়রা র. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যেদিন নাজ্জাশী বিলিয়নিয়ার বাদশা ইন্তেকাল করেন, সেদিন রাসূল স. তার মৃত্যুর সংবাদ দেন এবং তাদের সাহাবীদের নিয়ে জানাজার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবদ্ধ করেন, অতঃপর শুধু চারটি তাকবীর দিয়ে জানাযার সালাত আদায় করেন।
বোখারী-১২৪৫,১৩১৮,১৩২৭,১৩২৮,১৩৩৩, মুসলিম-৯৫১ আবু দাউদ-৩২০৬ হাদিসের শব্দ বলি বুখারীর।

দলিল-২
عن الشعبي، قال: اخبرني من شهد النبي صلى الله عليه وسلم، اتى على قبر منبوذ، فصفهم وكبر اربعا،قلت من حدثك، قال ابن عباس رضي الله عنهما
হযরত শা’বী র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এমন একজন সাহাবী যিনি নবী কারীম স. এর সাথে উপস্থিত ছিলেন, তিনি ইবনে আব্বাস র. আমাকে বলেছেন যে, একবার রসূল স. পৃথক একটি কবরের কাছে গেলেন এবং শুধু চার তাকবীর দিয়ে জানাজা আদায় করলেন।
বোখারী ১৩১৯,৮৫৭ মুসলিম ৯৫৪ মুসনাদে আহমদ ২৫৫৪ হাদিসের শব্দাবলি বুখারী।

দলিল-৩
انا ابي هريره قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রসূল স. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যখন তোমরা মাইয়েতের উপর নামাজ আদায় করবে, কখন খালেস ভাবে তার জন্য দোয়া করবে।
আবু দাউদ ৩২০১, ইবনে মাজা ১৪৯৭ বায়হাকী ৬৯৬৪ জামি সগীর৬৬৯ মিশকাত ১৬৭৪ ইবনে হিব্বান ৩০৭৬ হাদিসের শব্দাবলী আবু দাউদের ।

দলিল-৪
হযরত আবু হুরায়রা র. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার রসুল স. একটি জানাযার নামাজ আদায় করলেন। তখন তিনি এ দোয়া পাঠ করলেন-হে আল্লাহ তুমি আমাদের জীবিত ও মৃত ছোট ও বড়, পুরুষ ও মহিলা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, সকলকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ আমাদের মধ্যেও যাদেরকে তুমি জীবিত রেখেছো তাদেরকে ঈমানের ওপর জীবিত রাখো। আর আমাদের মধ্য থেকে যাকে মৃত্যুদান করো তাকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করিও।
আবু দাউদ ৩২০৩ তিরমিজি ১০২৪ ইবনে মাজা ১৪৯৮ আহমাদ ২২০৪৮ ইবনে হিব্বান ৩০৭০ হাদিসের শব্দাবলী আবু দাউদের
দলিল-৫
عن ابي سعيد المقبري انه سال ابا هريره رضي الله عنه كيف تصلي على الجنازه؟فقال ابو هريره: انا لعمر الله اخبرك اطبعها من اهلها فاذا وضعت كبرت وحمدت الله, وصليت على نبيه, ثم اقول: اللهم انه عبدك وابن عبدك وابن امتك كان يشهد ان لا اله الا انت …………….الاخر
হযরত আবু সাঈদ মাকবরী রহ. তিনি আবু হুরায়রা র. কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কিভাবে জানাজার নামাজ আদায় করেন? তিনি বলেন আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে এ ব্যাপারে অবগত করব। আমি মৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে তার পিছনে পিছনে আসি। এরপর যখন লাশ রাখা হয় তখন আমি তাকবির বলি। তারপর আল্লাহ তাআলার হামসানা পাঠ করি। এরপর তার নবীর উপর দরুদ পাঠ করি। তারপর এই দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নাহু ………..পাঠ করি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক, কিতাবুল জানায়েজ ৭৯/হাদিস ও মাসায়েল ১-৬৩২
দলিল-৬
انا ابي ابراهيم الانصاري عن ابيه،انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول في الصلاه على الميت: اللهم اغفر لي حينا وميتنا, وشاهدنا وغايبنا, وذكرنا وانثانا،وصغيرنا وكبيرنا
হযরত আবু ইব্রাহিম আনসারী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রসূল স. কে জানাজার সালাতে এ দোয়া পাঠ করতে শুনলেন: হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পুরুষ ও মহিলা, ছোট বড় সকলকে ক্ষমা করে দাও। নাসাঈ১৯৮৬
দলিল-৭
عن نافع ان عبد الله بن عمر كان لا يقراه في الصلاه على الجنازة
নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর র. জানাযার সালাতে কোন সূরা পাঠ করতেন না।
দলিল-৮
মক্কার সুপ্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত ইবনে আবু বারাহ কে জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ما سمعنا بهذا জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের কথা আমরা শুনিনি। অনুরূপভাবে বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আতা ইবনে আবু বারাহ, সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ রহ. প্রমখগন জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা কিতাবুল জানায়েজ ৩/১৮২-১৮৩, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৩/৪৮৬ হাদিস ও মাসায়েল ১/৬৩২
নোট:-
উপরোক্ত হাদিস সমূহ স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবী কারীম স. জানাযার সালাতে কখনো সুরা ফাতেহা পাঠ করেননি এবং পাটের নির্দেশও দেননি। অতএব যারা জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে থাকেন তারা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীনভাবেই তা করেন

🟠 জানাজার নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠের পক্ষে
হযরত ইবনে আব্বাস রা আব্দুল্লাহ মাসুদ ও ওসামা ইবনে হুনাইফ র. এর মতে জানাজার সালাতে প্রথম তাকবীরের পর সুরা ফাতেহা পাঠ করা উত্তম।
দলিল-১
عن طلحه بن عبد الله بن عوف قال صليت خلف بن عباس رضي الله عنهما على جنازه فقرا بفاتحه الكتاب قال ليعلموا انها سنة
তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আউফ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি ইবনে আব্বাস রা এর পিছনে জানাজার নামাজ আদায় করলাম। তাতে তিনি সুরা ফাতেহা পাঠ করলেন। এরপর নামাজ শেষে বলেন, আমি এরূপ করলাম যাতে লোকেরা একে সুন্নত বলে জানতে পারে।
বোখারী ১৩৩৫ তিরমিজি ১০২৬ নাসাঈ ১৯৮৭ আবু দাউদ ৩২০০ হাদিসের শব্দাবলী বুখারীর
দলিল -২
عن طلحه ابن عبد الله قال صليت خلف بن عباس على جنازه فسمعته يقرا بفاتحه الكتاب،فلما انصرف اخذت بيده فسالته فقلت تقرا قال نعم انه حق وسنه
হযরত তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি ইবনে আব্বাস র. এর সাথে জানাজার নামাজ আদায় করছি। আমি সালাতে তাকে সুরায় ফাতেহা পড়তে শুনতে পেলাম। যখনই নামাজ শেষ হল আমি তখনই তার হাত চেপে ধরলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সালাতের সুরা ফাতেহা পড়েন? তিনি বললেন হ্যাঁ এটি সঠিক এবং সুন্নত।
সুনানে নাসাঈ ১৯৮৮

🌑 দুই হাদিসের জবাব – (১)
উপরোক্ত বর্ণনা দুটি থেকে প্রমাণিত হয় যে, জানাযার সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ নবী কারীম স এর আমল নয়। বরং এটি ইবনে আব্বাস রা এর ব্যক্তিগত আমল। তাছাড়া এ হাদিসের রাবি হযরত তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ যিনি অত্যন্ত উঁচু মাপের একজন তাবেয়ি ছিলেন, তিনি ইতিপূর্বে কাউকে জানাজার সালাতের সূরা ফাতিহা পাঠ করতে শুনেননি। তাই হঠাৎ এটি শোনার পর তিনি খুব আশ্চর্য হলেন এবং নামাজ শেষ করেই অত্যন্ত বিষম্ময়ের সাথে ইবনে আব্বাস র. এর হাত চেপে ধরে তাকে প্রশ্ন করলেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, রসুল স. এবং হযরত সাহাবায়ে কেরামের যুগে এর প্রচলন ছিল না, বরং ইবনে আব্বাস র. ব্যক্তিগতভাবে এই আমলটি করেছেন। সুতরাং এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা সহি হবে না।
🌑 দুই হাদিসের জবাব (২)
রসুল স. জীবনে শত সহস্র জানাজার নামাজ আদায় করেছেন, যার বিবরণ সহি বুখারী -৮৫৭,১২৪৫,১২৪৭,১৩১৮,১৩১৯,১৩২১,১৩২২,১৩২৬,১৩৩৩,১৩৩৪,১৩৩৬,১৩৪০ মুসলিম ৯৫৪ আবু দাউদ ৩২০১,৩২০৩,৩২০৬, নাসাঈ ১৯৮৬, ইবনে মাজাহ ১৪৯৮ আহমদ ২৫৫৪ নাম্বার হাদিসে উল্লেখ আছে। কিন্তু এর কোন একটি সহি হাদিসে পাওয়া যায় না যে তিনি জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। সুতরাং ইবনে আব্বাস রা এর বর্ণনা انه حق وسنه এর ভিত্তিতে একে রাসূল স এর আমল বলার কোন সুযোগ নেই। বরং এটি তার ব্যক্তিগত আমল।
(হাদিস ও মাসায়েল ১/৬৩৩)
🌑 দুই হাদিসের জবাব (৩)
অনেকে অজ্ঞতাবশত لا صلاه لمن لم يقرا بفاتحه الكتاب যে ব্যক্তি সুরা ফাতেহা পড়ে না তার নামাজ শুদ্ধ হয় না (বুখারীর হাদিস ৭৫৬, আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৮২১) একে জানাজার সালাতের সূরা ফাতিহা পাঠের পক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেন। অথচ বিষয়টি সবারই জানা যে, এই হাদিসটি জানাযা সম্পর্কিত নয়, বরং এটি সাধারণত উক্তিও নামাজের ক্ষেত্রে। এই হাদিসকে জানাযার পক্ষে পেশ করা মারাত্মক ভুল ও অজ্ঞতারই পরিচয়।
মুফতি আলাউদ্দিন আল আজাদ (সাতক্ষীরা)
খতিব-কোনাবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গাজীপুর, ঢাকা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

আশুলিয়ায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক 

জানাযার নামাজে সুরা ফাতেহা পড়া

প্রকাশের সময়ঃ ০২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইসলামঃ জানাজার নামাজে সূরা ফাতিহা পড়া সম্পর্কে
. জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার প্রয়োজন আছে কিনা এ ব্যাপারে ফকিগণের সামান্য ইখতেলাফ রয়েছে। নিম্নে দলিল সহ তা উল্লেখ করা হলো:-

দলিল-১
ইমাম আবু হানিফা রহ. ইবনে ওমর র.আবু হুরায়রা ও ফাযালা ইবনে ওবায়েদ র. এর মতে জানাজার সালাতের সূরা ফাতেহা পড়ার প্রয়োজন নেই। বরং শুধু দোয়াই যথেষ্ট তারা এর পক্ষে নিম্নে দলিল সমূহ উল্লেখ করেন।
عن ابي هريره رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مع النجاشي في اليوم الذي مات فيه، اخرج بهم الى المصلى، فصف بهم،وكبر عليه اربع تكبيرات
হযরত আবু হোরায়রা র. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যেদিন নাজ্জাশী বিলিয়নিয়ার বাদশা ইন্তেকাল করেন, সেদিন রাসূল স. তার মৃত্যুর সংবাদ দেন এবং তাদের সাহাবীদের নিয়ে জানাজার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবদ্ধ করেন, অতঃপর শুধু চারটি তাকবীর দিয়ে জানাযার সালাত আদায় করেন।
বোখারী-১২৪৫,১৩১৮,১৩২৭,১৩২৮,১৩৩৩, মুসলিম-৯৫১ আবু দাউদ-৩২০৬ হাদিসের শব্দ বলি বুখারীর।

দলিল-২
عن الشعبي، قال: اخبرني من شهد النبي صلى الله عليه وسلم، اتى على قبر منبوذ، فصفهم وكبر اربعا،قلت من حدثك، قال ابن عباس رضي الله عنهما
হযরত শা’বী র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এমন একজন সাহাবী যিনি নবী কারীম স. এর সাথে উপস্থিত ছিলেন, তিনি ইবনে আব্বাস র. আমাকে বলেছেন যে, একবার রসূল স. পৃথক একটি কবরের কাছে গেলেন এবং শুধু চার তাকবীর দিয়ে জানাজা আদায় করলেন।
বোখারী ১৩১৯,৮৫৭ মুসলিম ৯৫৪ মুসনাদে আহমদ ২৫৫৪ হাদিসের শব্দাবলি বুখারী।

দলিল-৩
انا ابي هريره قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রসূল স. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যখন তোমরা মাইয়েতের উপর নামাজ আদায় করবে, কখন খালেস ভাবে তার জন্য দোয়া করবে।
আবু দাউদ ৩২০১, ইবনে মাজা ১৪৯৭ বায়হাকী ৬৯৬৪ জামি সগীর৬৬৯ মিশকাত ১৬৭৪ ইবনে হিব্বান ৩০৭৬ হাদিসের শব্দাবলী আবু দাউদের ।

দলিল-৪
হযরত আবু হুরায়রা র. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার রসুল স. একটি জানাযার নামাজ আদায় করলেন। তখন তিনি এ দোয়া পাঠ করলেন-হে আল্লাহ তুমি আমাদের জীবিত ও মৃত ছোট ও বড়, পুরুষ ও মহিলা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, সকলকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ আমাদের মধ্যেও যাদেরকে তুমি জীবিত রেখেছো তাদেরকে ঈমানের ওপর জীবিত রাখো। আর আমাদের মধ্য থেকে যাকে মৃত্যুদান করো তাকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করিও।
আবু দাউদ ৩২০৩ তিরমিজি ১০২৪ ইবনে মাজা ১৪৯৮ আহমাদ ২২০৪৮ ইবনে হিব্বান ৩০৭০ হাদিসের শব্দাবলী আবু দাউদের
দলিল-৫
عن ابي سعيد المقبري انه سال ابا هريره رضي الله عنه كيف تصلي على الجنازه؟فقال ابو هريره: انا لعمر الله اخبرك اطبعها من اهلها فاذا وضعت كبرت وحمدت الله, وصليت على نبيه, ثم اقول: اللهم انه عبدك وابن عبدك وابن امتك كان يشهد ان لا اله الا انت …………….الاخر
হযরত আবু সাঈদ মাকবরী রহ. তিনি আবু হুরায়রা র. কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কিভাবে জানাজার নামাজ আদায় করেন? তিনি বলেন আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে এ ব্যাপারে অবগত করব। আমি মৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে তার পিছনে পিছনে আসি। এরপর যখন লাশ রাখা হয় তখন আমি তাকবির বলি। তারপর আল্লাহ তাআলার হামসানা পাঠ করি। এরপর তার নবীর উপর দরুদ পাঠ করি। তারপর এই দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নাহু ………..পাঠ করি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক, কিতাবুল জানায়েজ ৭৯/হাদিস ও মাসায়েল ১-৬৩২
দলিল-৬
انا ابي ابراهيم الانصاري عن ابيه،انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول في الصلاه على الميت: اللهم اغفر لي حينا وميتنا, وشاهدنا وغايبنا, وذكرنا وانثانا،وصغيرنا وكبيرنا
হযরত আবু ইব্রাহিম আনসারী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রসূল স. কে জানাজার সালাতে এ দোয়া পাঠ করতে শুনলেন: হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পুরুষ ও মহিলা, ছোট বড় সকলকে ক্ষমা করে দাও। নাসাঈ১৯৮৬
দলিল-৭
عن نافع ان عبد الله بن عمر كان لا يقراه في الصلاه على الجنازة
নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর র. জানাযার সালাতে কোন সূরা পাঠ করতেন না।
দলিল-৮
মক্কার সুপ্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত ইবনে আবু বারাহ কে জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ما سمعنا بهذا জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের কথা আমরা শুনিনি। অনুরূপভাবে বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আতা ইবনে আবু বারাহ, সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ রহ. প্রমখগন জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা কিতাবুল জানায়েজ ৩/১৮২-১৮৩, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৩/৪৮৬ হাদিস ও মাসায়েল ১/৬৩২
নোট:-
উপরোক্ত হাদিস সমূহ স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবী কারীম স. জানাযার সালাতে কখনো সুরা ফাতেহা পাঠ করেননি এবং পাটের নির্দেশও দেননি। অতএব যারা জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে থাকেন তারা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীনভাবেই তা করেন

🟠 জানাজার নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠের পক্ষে
হযরত ইবনে আব্বাস রা আব্দুল্লাহ মাসুদ ও ওসামা ইবনে হুনাইফ র. এর মতে জানাজার সালাতে প্রথম তাকবীরের পর সুরা ফাতেহা পাঠ করা উত্তম।
দলিল-১
عن طلحه بن عبد الله بن عوف قال صليت خلف بن عباس رضي الله عنهما على جنازه فقرا بفاتحه الكتاب قال ليعلموا انها سنة
তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আউফ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি ইবনে আব্বাস রা এর পিছনে জানাজার নামাজ আদায় করলাম। তাতে তিনি সুরা ফাতেহা পাঠ করলেন। এরপর নামাজ শেষে বলেন, আমি এরূপ করলাম যাতে লোকেরা একে সুন্নত বলে জানতে পারে।
বোখারী ১৩৩৫ তিরমিজি ১০২৬ নাসাঈ ১৯৮৭ আবু দাউদ ৩২০০ হাদিসের শব্দাবলী বুখারীর
দলিল -২
عن طلحه ابن عبد الله قال صليت خلف بن عباس على جنازه فسمعته يقرا بفاتحه الكتاب،فلما انصرف اخذت بيده فسالته فقلت تقرا قال نعم انه حق وسنه
হযরত তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি ইবনে আব্বাস র. এর সাথে জানাজার নামাজ আদায় করছি। আমি সালাতে তাকে সুরায় ফাতেহা পড়তে শুনতে পেলাম। যখনই নামাজ শেষ হল আমি তখনই তার হাত চেপে ধরলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সালাতের সুরা ফাতেহা পড়েন? তিনি বললেন হ্যাঁ এটি সঠিক এবং সুন্নত।
সুনানে নাসাঈ ১৯৮৮

🌑 দুই হাদিসের জবাব – (১)
উপরোক্ত বর্ণনা দুটি থেকে প্রমাণিত হয় যে, জানাযার সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ নবী কারীম স এর আমল নয়। বরং এটি ইবনে আব্বাস রা এর ব্যক্তিগত আমল। তাছাড়া এ হাদিসের রাবি হযরত তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ যিনি অত্যন্ত উঁচু মাপের একজন তাবেয়ি ছিলেন, তিনি ইতিপূর্বে কাউকে জানাজার সালাতের সূরা ফাতিহা পাঠ করতে শুনেননি। তাই হঠাৎ এটি শোনার পর তিনি খুব আশ্চর্য হলেন এবং নামাজ শেষ করেই অত্যন্ত বিষম্ময়ের সাথে ইবনে আব্বাস র. এর হাত চেপে ধরে তাকে প্রশ্ন করলেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, রসুল স. এবং হযরত সাহাবায়ে কেরামের যুগে এর প্রচলন ছিল না, বরং ইবনে আব্বাস র. ব্যক্তিগতভাবে এই আমলটি করেছেন। সুতরাং এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা সহি হবে না।
🌑 দুই হাদিসের জবাব (২)
রসুল স. জীবনে শত সহস্র জানাজার নামাজ আদায় করেছেন, যার বিবরণ সহি বুখারী -৮৫৭,১২৪৫,১২৪৭,১৩১৮,১৩১৯,১৩২১,১৩২২,১৩২৬,১৩৩৩,১৩৩৪,১৩৩৬,১৩৪০ মুসলিম ৯৫৪ আবু দাউদ ৩২০১,৩২০৩,৩২০৬, নাসাঈ ১৯৮৬, ইবনে মাজাহ ১৪৯৮ আহমদ ২৫৫৪ নাম্বার হাদিসে উল্লেখ আছে। কিন্তু এর কোন একটি সহি হাদিসে পাওয়া যায় না যে তিনি জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। সুতরাং ইবনে আব্বাস রা এর বর্ণনা انه حق وسنه এর ভিত্তিতে একে রাসূল স এর আমল বলার কোন সুযোগ নেই। বরং এটি তার ব্যক্তিগত আমল।
(হাদিস ও মাসায়েল ১/৬৩৩)
🌑 দুই হাদিসের জবাব (৩)
অনেকে অজ্ঞতাবশত لا صلاه لمن لم يقرا بفاتحه الكتاب যে ব্যক্তি সুরা ফাতেহা পড়ে না তার নামাজ শুদ্ধ হয় না (বুখারীর হাদিস ৭৫৬, আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৮২১) একে জানাজার সালাতের সূরা ফাতিহা পাঠের পক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেন। অথচ বিষয়টি সবারই জানা যে, এই হাদিসটি জানাযা সম্পর্কিত নয়, বরং এটি সাধারণত উক্তিও নামাজের ক্ষেত্রে। এই হাদিসকে জানাযার পক্ষে পেশ করা মারাত্মক ভুল ও অজ্ঞতারই পরিচয়।
মুফতি আলাউদ্দিন আল আজাদ (সাতক্ষীরা)
খতিব-কোনাবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গাজীপুর, ঢাকা।