
যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ১১ বিঘা জমির বড় একটি অংশ বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমাণ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিযোগ, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের স্বজনপ্রীতির কারণে বিদ্যালয়ের জমিতে দোকানঘর, বসতবাড়ি, ঈদগাহ ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
এসব সরকারি জমি ব্যবহার করলেও বিদ্যালয়কে কোনো অর্থ দেওয়া হতো না বলে দাবি করছেন বর্তমান পরিচালনা কমিটির। সরকারি তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত অবস্থা ও অতীতের অনিয়ম বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির বর্তমাণ সভাপতি মহিউদ্দিন আলমগীর।
এদিকে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান পরিচালনা কমিটি। এরই অংশ হিসেবে গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল দশটায় বিদ্যালয়ের হলরুমে নতুন কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে কিছু জমি লিজ প্রদান করা হয়েছে। এর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে গ্রামজুড়ে মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হয়। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নাসির উদ্দীন মিন্টুকে অল্প কিছু জমি লিজ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন আলমগীর বলেন, বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ১১ বিঘা জমি থাকলেও এর সম্পূর্ণ অংশ এখন বিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে স্বজনপ্রীতির কারণে বিদ্যালয়ের জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও দোকানঘর, কোথাও ঈদগাহ, আবার কোথাও রাস্তা ও বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব জমি ব্যবহার করা হলেও বিদ্যালয়কে কোনো টাকা-পয়সা দেওয়া হতো না। ফলে প্রতিষ্ঠান তার ন্যায্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেই সময়ে জমির সঠিক পরিমাপ ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অবস্থান করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সম্ভব ছিল না। তাদের মধ্যে ভয়ভীতি ছিলো। ফলে বিদ্যালয়ের ১১ বিঘা জমি প্রায় সবটুকু বর্তমানে বেদখলে। আমরা চাই, সরকারি উদ্যোগে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। তদন্ত হলে জমির প্রকৃত পরিমাণ, কোথায় কীভাবে দখল বা স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে এবং অতীতে সরকারি জমি থেকে কোনো আয় হয়েছে কি না? সবকিছুই বেরিয়ে আসবে। আমরা যারা বর্তমান কমিটিতে আছি তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিদ্যালয় ও সম্পত্তি পরিচালনা করতে চাই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, বর্তমান কমিটি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে বদ্ধপরিকর। জমি থেকে প্রাপ্ত অর্থের যথাযথ হিসাব রাখা হবে এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থে তা ব্যবহার করা হবে।
স্থানীয় বিএনপির নেতা ও সাবেক সেনা সদস্য আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমির সঠিক হিসাব নির্ধারণ, বেদখল পরিস্থিতি যাচাই এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেহেনা বানু বলেন- সরকারি স্কুলের জমি দখলের বিষয়টি তার জানা নেই, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তিনি প্রথমে জেনেছেন। যদি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. সোহাগ হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ 









