০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে শেষ হলো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের দুইদিন ব্যাপী সর্ববৃহৎ ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব

  • শেরপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরঃ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ দুইদিনব্যাপী ফাতেমা রাণীর ২৯ তম বার্ষিক তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে দুই দিনব্যাপী এই তীর্থোৎসব শুরু হয়ে শুক্রবার দুপুরে শেষ হয়।

এতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা যোগ দেন।

‘মানবতার জননী ফাতেমা রানী মা মারিয়া’—এই মূল সুরে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় পাপস্বীকারের মধ্য দিয়ে তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

এরপর বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগ এবং রাত সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন আলোর মিছিল। এই মিছিলে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পুণ্যার্থী জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিয়ে মা মারিয়ার মূল মূর্তির কাছে প্রার্থনা করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় নিশিজাগরণ ও নিরাময় অনুষ্ঠান। শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ অতিক্রম। এরপর সকাল ১০ টায় মহা খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে এ বছরের তীর্থোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী। তীর্থোৎসব নির্বিঘ্ন করতে চার শতাধিক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ছিলো সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা।

১৯৪২ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকা গারো পাহাড়ে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে সাধু লিওর এই ধর্মপল্লী গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন ব্যাপী এখানে বার্ষিক তীর্থোৎসবের আয়োজন করা হয়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে শেষ হলো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের দুইদিন ব্যাপী সর্ববৃহৎ ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব

শেরপুরে শেষ হলো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের দুইদিন ব্যাপী সর্ববৃহৎ ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরঃ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ দুইদিনব্যাপী ফাতেমা রাণীর ২৯ তম বার্ষিক তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে দুই দিনব্যাপী এই তীর্থোৎসব শুরু হয়ে শুক্রবার দুপুরে শেষ হয়।

এতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা যোগ দেন।

‘মানবতার জননী ফাতেমা রানী মা মারিয়া’—এই মূল সুরে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় পাপস্বীকারের মধ্য দিয়ে তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

এরপর বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগ এবং রাত সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন আলোর মিছিল। এই মিছিলে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পুণ্যার্থী জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিয়ে মা মারিয়ার মূল মূর্তির কাছে প্রার্থনা করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় নিশিজাগরণ ও নিরাময় অনুষ্ঠান। শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ অতিক্রম। এরপর সকাল ১০ টায় মহা খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে এ বছরের তীর্থোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী। তীর্থোৎসব নির্বিঘ্ন করতে চার শতাধিক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ছিলো সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা।

১৯৪২ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকা গারো পাহাড়ে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে সাধু লিওর এই ধর্মপল্লী গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন ব্যাপী এখানে বার্ষিক তীর্থোৎসবের আয়োজন করা হয়।