
গাজীপুরঃ গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুর থানা এলাকায় এক অভিনব উপায়ে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী শিশু মারিয়া মাইশাকে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ১৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুর থানার সাতবাড়ী (সারদারঞ্জন) এলাকার বাসিন্দা মোঃ হাসান খান ও আকলিমা দম্পতির মেয়ে মারিয়া মাইশা (১০) গতকাল বিকেল ৪:০০ ঘটিকার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়।
পরবর্তীতে জানা যায়, এক অজ্ঞাতনামা মহিলা শিশু মাইশাকে কৌশলে ফুসলিয়ে বলে, “তোমার মা আমাকে পাঠিয়েছে, আমার সাথে চলো।” সরল বিশ্বাসে শিশুটি ওই মহিলার সাথে রওনা হয়। অভিযোগ উঠেছে, মহিলাটি এক পর্যায়ে শিশুটিকে একপ্রকার ‘হিপনোটাইজ’ (সম্মোহিত) করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। তারা বাসা থেকে হেঁটে প্রথমে হাতিমারা মোড়ে যায়। সেখানে ওই মহিলা এক বোতল পানি কিনে শিশুটিকে একটি অটোরিকশায় তুলে কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকার দিকে রওনা হয় এবং সেখানে গিয়ে ঢাকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
পুলিশের ক্ষিপ্রতা ও উদ্ধার অভিযান এদিকে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা পরিবার বিকেল গড়াতেই কাশিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৯১৭, তারিখ: ১৭/০৫/২০২৬) করেন।
জিডি হওয়ার পরপরই কাশিমপুর থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অ্যাকশনে নামেন। তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলের মাধ্যমে এএসআই এবং এসআই-দের যুক্ত করে চারপাশের সকল সোর্সকে সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে নিখোঁজ শিশুর এলাকা ‘সাতবাড়ী’র স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবকদের দ্রুত প্রতিটি বাস স্ট্যান্ডে তল্লাশি চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
সফল উদ্ধার ও স্বস্তি ,চারিদিকে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার তীব্র খোঁজাখুঁজি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারী মহিলাটি বেগতিক দেখে আমবাগ এলাকাতেই শিশু মাইশাকে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত ৭:০০ ঘটিকার সময় সাতবাড়ী এলাকার কয়েকজন যুবক কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকায় শিশুটিকে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চিনে ফেলে এবং উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ভিক্টিম শিশুটিকে তার পিতা মোঃ হাসান খানের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে সন্তানকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর প্রতি অশেষ শুকরিয়া আদায় করেছেন তার পরিবার।
এই সফল অভিযানের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “সকল সাফল্য একমাত্র আল্লাহর। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশের দ্রুত নেটওয়ার্কিং এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন সহযোগিতার কারণেই শিশুটিকে এত দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।” এই ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা মহিলাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 









