০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর ও শোরুম লুট, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি

ঢাকাঃ ঢাকার আশুলিয়ায় এক ব্যবসায়ীর জমি দখলচেষ্টা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং শোরুমে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ২৯ আগস্ট রাতে বাসাইড এলাকার একটি শোরুমে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: ফয়সাল (৩৩) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন,স্থানীয় সুমন (৩৬), কাওছার (৩৪), জয় (৩০), সোহেল (২৮), শাহীন (২৮) ও জুনি (৩৩)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন বিভিন্ন অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী মো: ফয়সাল ও তার অংশীদার শাহ আলম আশুলিয়ার বাসাইড মৌজায় বিআরএস-৮১২৫ ও ৮১২৭নং দাগে ১৩ শতাংশ জমি বায়না সূত্রে দখল পেয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। ফয়সাল ওমরাহ হজ্জ পালন শেষে গত ১৯ আগস্ট দেশে ফিরলে অভিযুক্তরা ওই জমির জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৯ আগস্ট রাত অনুমান ৯টার দিকে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফয়সালের শোরুমে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এ সময় দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলা-ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী সুমন ও ৩নং বিবাদী জয় তার বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

হামলা চলাকালে ২নং বিবাদী কাওছার শোরুমের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ফয়সালের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হামলার শিকার ভুক্তভোগী মো. ফয়সাল বলেন, আমি জমির ব্যবসা করি। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী কয়েক মাস ধরে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। সর্বশেষ কাওসার, সুমন ও জয় এবং তাদের বাহিনীর সদস্যরা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে আমার বায়নাকৃত জমিতে যেতে দেবে না বলে চাপ দিয়ে আসছিল তারা।

আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার রাত ৯টার দিকে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাসাইদের ওয়ালটন শোরুমে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমাকে মারধর করে আহত করে এবং ক্যাশ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা না দিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার উপর হামলার বিচার এবং আমার নিরাপত্তা দাবি করছি। প্রতিকার চেয়ে ঘটনার পর আশুলিয়া থানায় আমি লিখত অভিযোগ দিয়েছি।

ঘটনার সত্যতার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সুমনকে ফোন দিলে তিনি মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন,আমরা কয়েকজন ফয়সালের শোরুমে গিয়েছিলাম । সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে কিন্তু আমরা কোন টাকা পয়সা নেইনি।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভারে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি

আশুলিয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর ও শোরুম লুট, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকাঃ ঢাকার আশুলিয়ায় এক ব্যবসায়ীর জমি দখলচেষ্টা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং শোরুমে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ২৯ আগস্ট রাতে বাসাইড এলাকার একটি শোরুমে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: ফয়সাল (৩৩) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন,স্থানীয় সুমন (৩৬), কাওছার (৩৪), জয় (৩০), সোহেল (২৮), শাহীন (২৮) ও জুনি (৩৩)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন বিভিন্ন অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী মো: ফয়সাল ও তার অংশীদার শাহ আলম আশুলিয়ার বাসাইড মৌজায় বিআরএস-৮১২৫ ও ৮১২৭নং দাগে ১৩ শতাংশ জমি বায়না সূত্রে দখল পেয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। ফয়সাল ওমরাহ হজ্জ পালন শেষে গত ১৯ আগস্ট দেশে ফিরলে অভিযুক্তরা ওই জমির জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৯ আগস্ট রাত অনুমান ৯টার দিকে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফয়সালের শোরুমে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এ সময় দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলা-ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী সুমন ও ৩নং বিবাদী জয় তার বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

হামলা চলাকালে ২নং বিবাদী কাওছার শোরুমের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ফয়সালের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হামলার শিকার ভুক্তভোগী মো. ফয়সাল বলেন, আমি জমির ব্যবসা করি। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী কয়েক মাস ধরে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। সর্বশেষ কাওসার, সুমন ও জয় এবং তাদের বাহিনীর সদস্যরা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে আমার বায়নাকৃত জমিতে যেতে দেবে না বলে চাপ দিয়ে আসছিল তারা।

আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার রাত ৯টার দিকে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাসাইদের ওয়ালটন শোরুমে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমাকে মারধর করে আহত করে এবং ক্যাশ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা না দিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার উপর হামলার বিচার এবং আমার নিরাপত্তা দাবি করছি। প্রতিকার চেয়ে ঘটনার পর আশুলিয়া থানায় আমি লিখত অভিযোগ দিয়েছি।

ঘটনার সত্যতার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সুমনকে ফোন দিলে তিনি মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন,আমরা কয়েকজন ফয়সালের শোরুমে গিয়েছিলাম । সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে কিন্তু আমরা কোন টাকা পয়সা নেইনি।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।