০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হলে খুলবে হরমুজ প্রণালী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়াসহ ইরানে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি তাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, ইরান চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে যুদ্ধের সূচনা হয়।

জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষ দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচনাকারীরা “মাত্রই একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন”। তার মতে, চুক্তিটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শুক্রবার ইরানের গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যে শর্তগুলোতে সম্মতি হয়েছে তার “কোনো সম্পর্ক নেই” এবং সেগুলো “বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”।

এর কয়েক ঘণ্টা পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে এই সর্বশেষ চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ‘সমর্থক ও বিরোধী’ উভয় পক্ষই রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হলে খুলবে হরমুজ প্রণালী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ১১:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়াসহ ইরানে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি তাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, ইরান চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে যুদ্ধের সূচনা হয়।

জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষ দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচনাকারীরা “মাত্রই একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন”। তার মতে, চুক্তিটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শুক্রবার ইরানের গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যে শর্তগুলোতে সম্মতি হয়েছে তার “কোনো সম্পর্ক নেই” এবং সেগুলো “বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”।

এর কয়েক ঘণ্টা পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে এই সর্বশেষ চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ‘সমর্থক ও বিরোধী’ উভয় পক্ষই রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি