০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী অগ্রযাত্রায় উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

 

মোঃ চঞ্চল মাহমুদ খানঃ মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। উথলী বাজারের কাছে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ আজকের মতো ছিল না। সে সময়ে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় উথলী ও আশপাশের গ্রামের মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর বছরের পর বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে বহু ছাত্রী লেখাপড়া করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৭৮ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের রয়েছে একাধিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ১৪২ শতাংশ এবং খেলার মাঠ রয়েছে ৫৭ শতাংশ।

শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্যে বিভিন্ন সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের তালিকাও রয়েছে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে **পূজা সাহা** এবং মানবিক বিভাগ থেকে **রুপা আক্তার** জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েরা শিক্ষিত হলে পরিবার ও সমাজ উপকৃত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার জন্য পরিচালনা পর্ষদ কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৭৩ সালে যে উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে। গ্রামের মেয়েরা এখন মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পূজা সাহা ও রুপা আক্তারের জিপিএ-৫ অর্জন সেই ধারারই একটি সাফল্য।

উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

জাবিতে ছয় দফা দাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

নারী অগ্রযাত্রায় উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মোঃ চঞ্চল মাহমুদ খানঃ মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। উথলী বাজারের কাছে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ আজকের মতো ছিল না। সে সময়ে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় উথলী ও আশপাশের গ্রামের মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর বছরের পর বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে বহু ছাত্রী লেখাপড়া করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৭৮ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের রয়েছে একাধিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ১৪২ শতাংশ এবং খেলার মাঠ রয়েছে ৫৭ শতাংশ।

শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্যে বিভিন্ন সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের তালিকাও রয়েছে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে **পূজা সাহা** এবং মানবিক বিভাগ থেকে **রুপা আক্তার** জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েরা শিক্ষিত হলে পরিবার ও সমাজ উপকৃত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার জন্য পরিচালনা পর্ষদ কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৭৩ সালে যে উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে। গ্রামের মেয়েরা এখন মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পূজা সাহা ও রুপা আক্তারের জিপিএ-৫ অর্জন সেই ধারারই একটি সাফল্য।

উথলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের।