০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জের বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্টিত

মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার বেউথা এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতা মূলক এই নৌকাবাইচ দেখার জন্য সকাল থেকেই দূর- দূরান্তের বিভিন্য এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী- পুরুষ বেঊথা নদীর দুই পাড়ে ভির জমাতে থাকে।বিভিন্ন ধরনের মনোহারির দোকান আর নারী- পুরুষের আনাগুনায় বেউথা কালিগঙ্গা নদীর দুইপারের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুরে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাইচের নৌকা আর রংবেরংগের ময়ুর পঙ্খি নৌকার আনাগুনায় মুখরিত হয়ে উঠে বেউথায় কালিগঙ্গা নদী। মাঝি মাল্লারা বাহারী ধরনের পোশাক পড়ে তাদের ছন্দময় বৌঠা চালায়ে মানুষকে আকৃষ্ঠ করে তুলে।

বেলা বারোটার দিকে নৌকা বাইচের উদ্ধোধন করেন মানিকগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
এসময় উপস্থিত ছেলেন, মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সসদস্য এস এ জিন্না কবির,জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, গোলাম আবেদীন কায়সার, নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য সচিব মো. মাসুদ পারভেজ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, যুবদলের সদস্য সচিব মো. তুহিনুর রহমানসহ বিএনপির অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এর পর শুরু হয় মূল আকর্শন বাইচ প্রতিযোগিতা।
কুড়িগ্রাম, পাবনা, দোহার, নবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২২টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
মাইচ শুরু হলে মাঝিদের বৈঠার আঘাতে নদী হয়ে উঠে উত্তাল। পানি ঢেউভেঙ্গে দুভাগ হয়ে আছরিয়ে পড়তে থাকে নদীর দুই পাড়ে। সে এক অপরুপ দৃশ্য। ছিবা,খেল্লা,ঘাসি,ছান্দি ময়ুরপঙ্খি সহ ৩৫টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বলে আয়োজকরা জানান।

বাংলা একাডেমীর ফেলো ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কার প্রাপ্ত শিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতী বলেন,নদী এবং নৌকা শব্দদুটি একিসুতায় গাথা। নদী শুভাই হচ্ছে নৌকা। একসময় বর্ষা এলেই সারা বাংলাদেশ জুরে নৌকাবাইচ হতো। এখন দেশে তেমন পানি হয়না।আর আগের মত সৌখিন মানুষও খুব একটা নেই। তাই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচও কালে কালে হারাতে বসেছে।

সরকার এবং জনগনেরপৃষ্ঠ পোষকতা পেলে আবার প্রান পাবে নৌকা বাইচের। বাংলার বুকে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে নৌকা বাইচ। মানিকগঞ্জে এমন নৌকা বাইচের আয়োজন আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.তা.ম. জহির আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খান রিতা
বিজয়িদের মাঝে পুরস্কার বিতরকরেন।

আয়োজকদের দাবি, এবারের বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের বাইচে খেল্লা-গয়ইটা, ঘাসি-ছিপা, ছান্দি ও পানসিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা অংশ নেয়। নৌকার ধরন অনুযায়ী আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। খেল্লা-গয়ইটা ও ঘাসি-ছিপা বিভাগে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল ১০০ সিসি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় ফ্রিজ। ছান্দি ও পানসি বিভাগে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ইলেকট্রিক বাইক। এ ছাড়া প্রতিটি নৌকার জন্য ছিল পিতলের কাপ।এ ছাড়া ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায় নৌকা ও ব্যক্তির জন্য টেলিভিশন, প্রেসার কুকার, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মানিকগঞ্জের বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্টিত

মানিকগঞ্জের বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্টিত

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার বেউথা এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতা মূলক এই নৌকাবাইচ দেখার জন্য সকাল থেকেই দূর- দূরান্তের বিভিন্য এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী- পুরুষ বেঊথা নদীর দুই পাড়ে ভির জমাতে থাকে।বিভিন্ন ধরনের মনোহারির দোকান আর নারী- পুরুষের আনাগুনায় বেউথা কালিগঙ্গা নদীর দুইপারের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুরে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাইচের নৌকা আর রংবেরংগের ময়ুর পঙ্খি নৌকার আনাগুনায় মুখরিত হয়ে উঠে বেউথায় কালিগঙ্গা নদী। মাঝি মাল্লারা বাহারী ধরনের পোশাক পড়ে তাদের ছন্দময় বৌঠা চালায়ে মানুষকে আকৃষ্ঠ করে তুলে।

বেলা বারোটার দিকে নৌকা বাইচের উদ্ধোধন করেন মানিকগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
এসময় উপস্থিত ছেলেন, মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সসদস্য এস এ জিন্না কবির,জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, গোলাম আবেদীন কায়সার, নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য সচিব মো. মাসুদ পারভেজ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, যুবদলের সদস্য সচিব মো. তুহিনুর রহমানসহ বিএনপির অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এর পর শুরু হয় মূল আকর্শন বাইচ প্রতিযোগিতা।
কুড়িগ্রাম, পাবনা, দোহার, নবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২২টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
মাইচ শুরু হলে মাঝিদের বৈঠার আঘাতে নদী হয়ে উঠে উত্তাল। পানি ঢেউভেঙ্গে দুভাগ হয়ে আছরিয়ে পড়তে থাকে নদীর দুই পাড়ে। সে এক অপরুপ দৃশ্য। ছিবা,খেল্লা,ঘাসি,ছান্দি ময়ুরপঙ্খি সহ ৩৫টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বলে আয়োজকরা জানান।

বাংলা একাডেমীর ফেলো ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কার প্রাপ্ত শিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতী বলেন,নদী এবং নৌকা শব্দদুটি একিসুতায় গাথা। নদী শুভাই হচ্ছে নৌকা। একসময় বর্ষা এলেই সারা বাংলাদেশ জুরে নৌকাবাইচ হতো। এখন দেশে তেমন পানি হয়না।আর আগের মত সৌখিন মানুষও খুব একটা নেই। তাই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচও কালে কালে হারাতে বসেছে।

সরকার এবং জনগনেরপৃষ্ঠ পোষকতা পেলে আবার প্রান পাবে নৌকা বাইচের। বাংলার বুকে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে নৌকা বাইচ। মানিকগঞ্জে এমন নৌকা বাইচের আয়োজন আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.তা.ম. জহির আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খান রিতা
বিজয়িদের মাঝে পুরস্কার বিতরকরেন।

আয়োজকদের দাবি, এবারের বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের বাইচে খেল্লা-গয়ইটা, ঘাসি-ছিপা, ছান্দি ও পানসিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা অংশ নেয়। নৌকার ধরন অনুযায়ী আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। খেল্লা-গয়ইটা ও ঘাসি-ছিপা বিভাগে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল ১০০ সিসি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় ফ্রিজ। ছান্দি ও পানসি বিভাগে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ইলেকট্রিক বাইক। এ ছাড়া প্রতিটি নৌকার জন্য ছিল পিতলের কাপ।এ ছাড়া ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায় নৌকা ও ব্যক্তির জন্য টেলিভিশন, প্রেসার কুকার, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়