
মোঃ চাঞ্চল মাহমুদ খানঃ সৌদি আরবে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি তার নিজ কোম্পানি থেকে চাকরি হারান, তাহলে তিনি সরাসরি অবৈধ হয়ে যান না। তবে তার বৈধ অবস্থান নির্ভর করে মূলত ইকামা (Iqama) বা আবাসিক পারমিটের মেয়াদের ওপর।
জানা গেছে, ইকামা বৈধ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সৌদি আরবে অবস্থান করতে পারবেন। তবে তিনি পূর্বের কোম্পানির অধীনে না থাকায় অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলে অবশ্যই নতুন স্পন্সর (কফিল) গ্রহণ করতে হবে। সৌদি আইনে একজন কর্মী শুধুমাত্র তার স্পন্সরের অধীনেই কাজ করতে পারেন।
বর্তমানে সৌদি সরকারের নতুন শ্রমনীতির আওতায় অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত এক বছর) কাজ করার পর পূর্ববর্তী কোম্পানির অনুমতি ছাড়াই অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি অনলাইনে Qiwa প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা “ইকামা ট্রান্সফার” বা “নাকাল কফালা” নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, যদি কোনো কোম্পানি কর্মীর বিরুদ্ধে “হুরুব” (পলাতক) অভিযোগ দায়ের করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তাকে জেল বা দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
এছাড়া, কোম্পানি যদি “ফাইনাল এক্সিট” প্রদান করে, তাহলে কর্মীর ইকামা বাতিল হয়ে যায় এবং তাকে নির্ধারিত সময়সীমার (সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে) সৌদি আরব ত্যাগ করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের উচিত দ্রুত নতুন চাকরি খোঁজা এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় স্পন্সর পরিবর্তন করা। একই সঙ্গে অবৈধভাবে কাজ করা থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় বা লেবার কোর্টে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই তাদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।
মোঃ চঞ্চল মাহমুদ খান, স্টাফ রিপোর্টার 

























