০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবিতে ছয় দফা দাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

 

জাবিঃ জাকসু ও হল সংসদের আবাসন বৈষম্য বাতিল, পদোন্নতি বোর্ডের অনিয়ম ও ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে জাকসু ভিপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগসহ ছয় দফার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা-কর্মীরা।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রবিবার বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রশক্তি জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পাওয়ার প্র্যাকটিসের রাজনীতি দেখতে চাই না। কিন্তু আমরা দেখছি, একটি দলের ভিপি প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার নামে একটি কোম্পানির কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আবার জরুরি কাজের অজুহাতে টেন্ডার ছাড়া প্রকল্প দিয়ে অতিরিক্ত টাকা বের করা হচ্ছে।”

​তিনি আরও বলেন, “জাকসু ভিপি ইনবক্সে পরীক্ষিত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বলেছেন, তিনি (জিতু) ভিপি না হলে তারা বিপদে পড়বে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যত কর্মসূচি হয়, সিসি ক্যামেরার তথ্য যেখানে পাচার হয় তার পেছনে নিশ্চয়ই জাকসু নেতাদের মদদ আছে।”

এছাড়াও হুঁশিয়ারি দিয়ে অন্বেষা বলেন, “রাজনৈতিক দুশ্চরিত্রের মতো আচরণ করলে শিক্ষার্থীরা তাকে (জিতু) প্রত্যাখ্যান করবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি না করে, তবে আগামীতে আমরা রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করতে বাধ্য হব।”

এছাড়াও ছাত্রশক্তি জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “আমরা গত ১৯ আগস্ট প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে চাঁদা আদায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে ইন্ধন দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি, তিনি এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বলেছেন, “আমি জেতা মানে তোরাই জেতা। তাঁর এমন বার্তা প্রমাণ করে, তিনি ছাত্রলীগকে শেল্টার দিচ্ছেন। জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা এই ভিপির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তা না হলে আমরা বুঝব উপাচার্য নিজেই তাকে শেল্টার দিচ্ছেন।”

​তিনি আরও বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও আসাদুল আলম শেখকে কেন সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা দেওয়া হলো? তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করতে হবে। এ ছাড়া ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি ঐশী সরকার ট্রেজারি ফান্ডের ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি। এসব অভিযোগের তদন্ত না হলে বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির কারখানায় পরিণত হবে।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

জাবিতে ছয় দফা দাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

জাবিতে ছয় দফা দাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:২৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

জাবিঃ জাকসু ও হল সংসদের আবাসন বৈষম্য বাতিল, পদোন্নতি বোর্ডের অনিয়ম ও ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে জাকসু ভিপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগসহ ছয় দফার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা-কর্মীরা।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রবিবার বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রশক্তি জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পাওয়ার প্র্যাকটিসের রাজনীতি দেখতে চাই না। কিন্তু আমরা দেখছি, একটি দলের ভিপি প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার নামে একটি কোম্পানির কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আবার জরুরি কাজের অজুহাতে টেন্ডার ছাড়া প্রকল্প দিয়ে অতিরিক্ত টাকা বের করা হচ্ছে।”

​তিনি আরও বলেন, “জাকসু ভিপি ইনবক্সে পরীক্ষিত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বলেছেন, তিনি (জিতু) ভিপি না হলে তারা বিপদে পড়বে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যত কর্মসূচি হয়, সিসি ক্যামেরার তথ্য যেখানে পাচার হয় তার পেছনে নিশ্চয়ই জাকসু নেতাদের মদদ আছে।”

এছাড়াও হুঁশিয়ারি দিয়ে অন্বেষা বলেন, “রাজনৈতিক দুশ্চরিত্রের মতো আচরণ করলে শিক্ষার্থীরা তাকে (জিতু) প্রত্যাখ্যান করবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি না করে, তবে আগামীতে আমরা রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করতে বাধ্য হব।”

এছাড়াও ছাত্রশক্তি জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “আমরা গত ১৯ আগস্ট প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে চাঁদা আদায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে ইন্ধন দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি, তিনি এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বলেছেন, “আমি জেতা মানে তোরাই জেতা। তাঁর এমন বার্তা প্রমাণ করে, তিনি ছাত্রলীগকে শেল্টার দিচ্ছেন। জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা এই ভিপির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তা না হলে আমরা বুঝব উপাচার্য নিজেই তাকে শেল্টার দিচ্ছেন।”

​তিনি আরও বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও আসাদুল আলম শেখকে কেন সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা দেওয়া হলো? তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করতে হবে। এ ছাড়া ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি ঐশী সরকার ট্রেজারি ফান্ডের ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি। এসব অভিযোগের তদন্ত না হলে বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির কারখানায় পরিণত হবে।”