১০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুমতির বুকে বৈঠার ঝংকার, মহম্মদপুরে ঝামা শতবর্ষী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলায় মানুষের ঢাল

মাগুরাঃ শরতের শেষ আর হেমন্তের রঙিন আমেজে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ঝামা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। (২২ অক্টোবর) (বৃহস্পতিবার) এই

এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে
মধুমতি নদীর দুই পাড়ে সব বয়সী নারী-পুরুষ ও দর্শনার্থীদের বাঁধভাঙা ভিড় জমে।

​উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর থেকে ঝামা এলাকা পর্যন্ত মধুমতি নদীর প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ পথে এই রোমাঞ্চকর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি সুসজ্জিত নৌকা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতি মন্ত্রী উপস্থিত থেকে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন।

​উদ্বোধনের সাথে সাথেই কাশার ঘণ্টা, বাদ্যের তালে তালে মাঝিদের হাঁকডাকে পুরো নদী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মধুমতি নদীর জলে বৈঠার ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠে, আর টং টং শব্দের সাথে নদীর দুই তীরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আনন্দ।

​বাইচ উপলক্ষে ঝামা বাজারসহ নদীর দুই পাড়ের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে বসে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। ঝামা বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে দোকানিরা লোকজ কারুশিল্প, রঙিন মাটির খেলনা, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও গৃহস্থালির দরকারি সব জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন। কেনাকাটা আর ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে পুরো এলাকা যেন এক আনন্দময় লোকজ মিলনমেলায় রূপ নেয়।

​প্রতিযোগিতা ও মেলা পরিদর্শন শেষে ঝামা বাজার চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঝামা নৌকা বাইচ ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম এম রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদতী মিস্ত্রি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান,উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা এবং সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. এম এম রইচ উদ্দিন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলা শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ী নৌকাগুলোর মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মেলা কমিটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের আতিকের নৌকা প্রথম স্থান এবং একই গ্রামের আকিবের নৌকা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। সবশেষে বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মহম্মদপুরে সাবেক জাতীয় ফুটবলারদের প্রীতি ম্যাচ, ১-০ গোলে জয়ী সোনালী অতীত ক্লাব

মধুমতির বুকে বৈঠার ঝংকার, মহম্মদপুরে ঝামা শতবর্ষী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলায় মানুষের ঢাল

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:২৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরাঃ শরতের শেষ আর হেমন্তের রঙিন আমেজে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ঝামা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। (২২ অক্টোবর) (বৃহস্পতিবার) এই

এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে
মধুমতি নদীর দুই পাড়ে সব বয়সী নারী-পুরুষ ও দর্শনার্থীদের বাঁধভাঙা ভিড় জমে।

​উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর থেকে ঝামা এলাকা পর্যন্ত মধুমতি নদীর প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ পথে এই রোমাঞ্চকর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি সুসজ্জিত নৌকা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতি মন্ত্রী উপস্থিত থেকে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন।

​উদ্বোধনের সাথে সাথেই কাশার ঘণ্টা, বাদ্যের তালে তালে মাঝিদের হাঁকডাকে পুরো নদী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মধুমতি নদীর জলে বৈঠার ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠে, আর টং টং শব্দের সাথে নদীর দুই তীরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আনন্দ।

​বাইচ উপলক্ষে ঝামা বাজারসহ নদীর দুই পাড়ের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে বসে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। ঝামা বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে দোকানিরা লোকজ কারুশিল্প, রঙিন মাটির খেলনা, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও গৃহস্থালির দরকারি সব জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন। কেনাকাটা আর ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে পুরো এলাকা যেন এক আনন্দময় লোকজ মিলনমেলায় রূপ নেয়।

​প্রতিযোগিতা ও মেলা পরিদর্শন শেষে ঝামা বাজার চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঝামা নৌকা বাইচ ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম এম রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদতী মিস্ত্রি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান,উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা এবং সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. এম এম রইচ উদ্দিন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলা শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ী নৌকাগুলোর মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মেলা কমিটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের আতিকের নৌকা প্রথম স্থান এবং একই গ্রামের আকিবের নৌকা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। সবশেষে বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।