
লালমনিরহাটঃ সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এতে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। মাটিবোঝাই যন্ত্রদানব এসব ট্রাক্টর চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ কাচা-পাকা সড়ক । সড়কে এসব যন্ত্রদানব ট্রাক্টর চলাচলে সড়ক দুর্ঘটনার আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। এসকল মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে দিন দিন উৎপাদন কমছে ফসলের, বেকার হচ্ছে কৃষক, নষ্ট হচ্ছে সড়ক, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
কৃষি জমিতে হাল চাষের জন্য আমদানিকৃত মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে বডি সংযুক্ত করে সড়কে কখনো কৃষি জমির মাটি, কখনো ইট-বালি পরিবাহন করছে এই অবৈধ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। অদক্ষ চালক দিয়ে পরিচালিত এ ট্রাক্টরের গতির কারণে ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। ট্রাক্টরের চলাচল দেখে মনে হবে সড়কে চলছে ট্রাক্টরের মিছিল ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর দলগ্রাম বড়দিঘীরপাড় এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। কৃষি জমিতে এস্কেভেটর (খনন যন্ত্র) ব্যবহারের মাধ্যমে এসব মাটি কাটা হচ্ছে। জমির পাশে দাঁড়ানো ট্রাকে মাটি তুলছেন শ্রমিকেরা। বোরোর আবাদ শুরু না হওয়ায় যন্ত্রদানব ট্রাকগুলো জমির মাঝখান দিয়ে চলাচল করছে।
জমির মালিক ও মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকেরা বলেন, বসতভিটা ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য মাটি কাটা হচ্ছে। এসকল মাটি কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এস্কেভেটর (খনন যন্ত্র) ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কয়েকটি শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা দরিদ্র কৃষককে নানা প্রলোভন দেখিয়ে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনের তাগিদে নগদ অর্থ পেতে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং সঠিক তথ্য পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সহিদুল ইসলাম বিভাগীয় প্রতিনিধি রংপুরঃ 














