০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপহরণের পর শিশুহত্যা: দুইজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছরের সাজা

  • আব্দুর রহমান
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৩৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকাঃ রাজধানীর কাফরুল এলাকায় ১৮ বছর আগে ১১ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম মিলনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ মামলায় অপহরণের দায়ে ১৫ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুলকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ রয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। পরদিন থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় মিলনের বাবা ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে কললিস্টের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া এলাকা থেকে মিলনের দেহাবশেষ, দাঁত এবং রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করা হয়। এরপর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৩ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মীর আবুল কালাম আজাদ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

অপহরণের পর শিশুহত্যা: দুইজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছরের সাজা

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৩৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

ঢাকাঃ রাজধানীর কাফরুল এলাকায় ১৮ বছর আগে ১১ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম মিলনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ মামলায় অপহরণের দায়ে ১৫ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুলকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ রয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। পরদিন থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় মিলনের বাবা ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে কললিস্টের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া এলাকা থেকে মিলনের দেহাবশেষ, দাঁত এবং রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করা হয়। এরপর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৩ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মীর আবুল কালাম আজাদ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল।