
ঢাকাঃ সাভার পৌর এলাকার রাজাশনে মাদক আখড়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৪ সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। শীর্ষ মাদককারবারি শামীম ও তার সহযোগীদের হামলায় তারা গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন- এস এ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন ও উভয় টিভির দুই ক্যামেরা পারসন। আহতদের প্রথমে সাভার ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
শামীম ওরফে শামীম ডাকাত ২০১০ সালে রাজশাহী জেলা থেকে সাভারের সাহিবাগ এলাকায় আসে। এখানে এসে চুরি ছিনতাই কাজের মাধ্যমে অপরাধ জগতে হাত পাকায়। এরপর নারী পাচার, পুলিশের পেশাক পরে ডাকাতি এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে সাভারের অপরাধ জগতের শীর্ষে উঠে আসে। তার অপরাধ রাজ্য টিকিয়ে রাখতে সে তৈরি করে শক্তিশালি সন্ত্রাসী বাহিনী। তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য ব্যাটারী রাজু যার মাধ্যমে সে হিরোইন ও ইয়াবা সাপ্লাই করায়। টোকাই ফিরোজের মাধ্যমে ইয়াবা গাঁজা সাপ্লাই এবং বাবুর হাত ধরে নিয়ন্ত্রণ হয় ফেনসিডিলের ব্যবসা। এ বিষয়ে এলাকাবসী মুখ খোলার সাহস পায় না।
জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকার রাজাশন পালোয়ান পাড়ায় শামীমের মাদক আখড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে প্রকাশ্য মাদক বেচাকেনা চলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে প্রশাসনের টনক নড়েনি। অভিযোগ আছে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা এ আখড়া হতে নিয়মিত মাশোহারা নিয়ে থাকেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক উদ্ধারকৃত মাদকের একটি অংশ এ আখড়ায় বিক্রয় করা হয়ে থাকে। শামীম ইতঃপূর্বে পুলিশের পোশাক পরিহিত হয়ে ডাকাতি করতে গিয়ে একাধিক বার গ্রেফতার হয়ে হাজত বাস করে। তার আখড়ায় অর্ধশতাধিক মাস্তান সন্ত্রাসীকে লালন পালন করা হচ্ছে।
এর আগে এসএ টিভিতে শামীমের মাদকের আখড়া নিয়ে দুই পর্বের সংবাদ প্রচার হলে মাদক সম্রাট শামীম সাভারে তার পালিত গুন্ডা বাহিনী দিয়ে রিপোর্টার সাদ্দাম কে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন।মাদক সম্রাট শামীম সেই টার্গেট পুরণ করতেই এভাবে হত্যার উদ্দেশ্য আক্রমণ চালায়।তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী এই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।
এই শামীমের বিরুদ্ধে পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার অভিযোগ রয়েছে। তার এই গ্যারেজে ১৫ থেকে ২০ টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে আশপাশের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।অপরাধের সর্গ রাজ্য হিসেবে পরিচিত মাদক সম্রাট শামীমের এই গ্যারেজ।
এই ঘটনায় এখন পযন্ত শামীম বাহিনীর চার জনকে আটক করেছে সাভার থানা পুলিশ। তবে ধরাছোঁয়ার বাহিরে আছেন মাদক সম্রাট গ্যারেজ শামীম।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাভার, আশুলিয়ায় কর্মরত সকল সাংবাদিকসহ দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা।
এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর মো: জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন,মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে।
এই বিষয়ে সাভার থানার অফিসার ইনচার্জ কে ফোনে পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















