০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে ভাবি, ভাতিজাকে হত্যার চার দিন পর হত্যাকারী ইউসুফ গ্রেফতার

মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী ভাতিজাকে হত্যার চার দিন পর অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাকে (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার ( ২ জুন) দিবাগত রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার মিরপুর বেরিবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

নিহতরা হলেন আব্দুস ছালামের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আমেনা বেগমের স্বামী ও হত্যাকারী ইউসুফের বড় ভাই আব্দুস ছালাম (৪০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানবেন্দ্র বালো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে রাত ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাচামারা ফকিরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ভাই আব্দুস ছালাম ও ছোট ভাই ইউসুফ মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ঘটনার রাতে এ বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইউসুফ ধারালো অস্ত্র নিয়ে বড় ভাই ভাবির উপর হামলা চালান। এতে আমেনা ও তার শিশু সন্তান আসওয়াদ গুরুতর আহত হন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুস ছালামও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস ছালামকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই ইউসুফ মোল্লা পালিয়ে যান। পরে তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অবশেষে ২ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার মিরপুর বেরিবাঁধ এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানবেন্দ্র বালো জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

১০ বছর পর হুইলচেয়ারে বসে ঘরের বাইরে বের হলেন জমেলা বেগম, পাশে জেলা প্রশাসক

মানিকগঞ্জে ভাবি, ভাতিজাকে হত্যার চার দিন পর হত্যাকারী ইউসুফ গ্রেফতার

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী ভাতিজাকে হত্যার চার দিন পর অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাকে (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার ( ২ জুন) দিবাগত রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার মিরপুর বেরিবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

নিহতরা হলেন আব্দুস ছালামের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আমেনা বেগমের স্বামী ও হত্যাকারী ইউসুফের বড় ভাই আব্দুস ছালাম (৪০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানবেন্দ্র বালো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে রাত ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাচামারা ফকিরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ভাই আব্দুস ছালাম ও ছোট ভাই ইউসুফ মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ঘটনার রাতে এ বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইউসুফ ধারালো অস্ত্র নিয়ে বড় ভাই ভাবির উপর হামলা চালান। এতে আমেনা ও তার শিশু সন্তান আসওয়াদ গুরুতর আহত হন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুস ছালামও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস ছালামকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই ইউসুফ মোল্লা পালিয়ে যান। পরে তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অবশেষে ২ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার মিরপুর বেরিবাঁধ এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানবেন্দ্র বালো জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি ।