১১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শায় জাল সনদে চাকরি, এক শিক্ষক কারাগারে, তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি 

 

যশোরঃ যশোরের শার্শায় জাল সনদে চাকরির অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণকারী সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই সাথে মামলার অপর তিন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। আসামি ইদ্রিস আলী ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে ও শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিপিএড)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার ৭নং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু চালতাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালীন তার সহযোগিতায় সহকারী শিক্ষক পদে চারজন চাকরিতে যোগদান করেন।

কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের অপর সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সাবেক চেয়ারম্যান টিংকুসহ ১০/১৫ অজ্ঞতনামা ব্যক্তি রুহুল কুদ্দুসকে খুন জখমের হুমকি দেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ যশোরের এসআই বখতিয়ার রহমান ওই তিন শিক্ষকের সনদপত্র জাল ও সাবেক চেয়ারম্যানের সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনের উপর শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন। আসামিরা হলেন, চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) সালেহা খাতুন, সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মামলার ধার্য দিনে ইদ্রিস আলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ

শার্শায় জাল সনদে চাকরি, এক শিক্ষক কারাগারে, তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি 

প্রকাশের সময়ঃ ১১:০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

যশোরঃ যশোরের শার্শায় জাল সনদে চাকরির অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণকারী সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই সাথে মামলার অপর তিন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। আসামি ইদ্রিস আলী ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে ও শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিপিএড)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার ৭নং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু চালতাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালীন তার সহযোগিতায় সহকারী শিক্ষক পদে চারজন চাকরিতে যোগদান করেন।

কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের অপর সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সাবেক চেয়ারম্যান টিংকুসহ ১০/১৫ অজ্ঞতনামা ব্যক্তি রুহুল কুদ্দুসকে খুন জখমের হুমকি দেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ যশোরের এসআই বখতিয়ার রহমান ওই তিন শিক্ষকের সনদপত্র জাল ও সাবেক চেয়ারম্যানের সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনের উপর শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন। আসামিরা হলেন, চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) সালেহা খাতুন, সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মামলার ধার্য দিনে ইদ্রিস আলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।