০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছর পর হুইলচেয়ারে বসে ঘরের বাইরে বের হলেন জমেলা বেগম, পাশে জেলা প্রশাসক

  • শেরপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:১৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

শেরপুরঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ পেরোনো জমেলা বেগম। দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর একাকীত্বে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঘরের মধ্যেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। চলাফেরার সামর্থ্য না থাকায় দিনের পর দিন ঘরবন্দি হয়ে থাকা এই অসহায় নারীর দুর্বিষহ জীবনের চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের।

বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার জমেলা বেগমের বাড়িতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। সরেজমিনে তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং অসহায়ত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।

এ সময় জমেলা বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় দুই বান্ডিল টিন ও একটি হুইলচেয়ার। এছাড়া দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের পক্ষ থেকে শেরপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহিদুল হক মনিরের মাধ্যমে জমেলা বেগমকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশাসক পূর্বের সহায়তার পাশাপাশি নতুন করে জমেলা বেগমের জন্য একটি ঘর নির্মাণ, বাড়ির ভিটায় মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। জমেলা বেগমের বিষয়টি জানার পর তাঁর বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার প্রয়োজন মনে হয়েছে। তাঁর জীবনযাত্রার কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রায় এক দশক ঘরবন্দি থাকার পর হুইলচেয়ার পেয়ে জমেলা বেগমের চোখেমুখে দেখা যায় স্বস্তির ছাপ। এখন অন্তত ঘরের বাইরে কিছুটা চলাফেরা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর।
জমেলা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করতে না পারায় ঘরের মধ্যেই থাকতে হয়েছে। হুইলচেয়ার পাওয়ায় এখন বাইরে বের হওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রশাসন ও যারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা জমেলা বেগমের পাশে জেলা প্রশাসন দাঁড়ানোয় তাঁর জীবনে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জমেলা বেগমের মতো সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

১০ বছর পর হুইলচেয়ারে বসে ঘরের বাইরে বের হলেন জমেলা বেগম, পাশে জেলা প্রশাসক

১০ বছর পর হুইলচেয়ারে বসে ঘরের বাইরে বের হলেন জমেলা বেগম, পাশে জেলা প্রশাসক

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

শেরপুরঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ পেরোনো জমেলা বেগম। দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর একাকীত্বে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঘরের মধ্যেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। চলাফেরার সামর্থ্য না থাকায় দিনের পর দিন ঘরবন্দি হয়ে থাকা এই অসহায় নারীর দুর্বিষহ জীবনের চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের।

বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার জমেলা বেগমের বাড়িতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। সরেজমিনে তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং অসহায়ত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।

এ সময় জমেলা বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় দুই বান্ডিল টিন ও একটি হুইলচেয়ার। এছাড়া দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের পক্ষ থেকে শেরপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহিদুল হক মনিরের মাধ্যমে জমেলা বেগমকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশাসক পূর্বের সহায়তার পাশাপাশি নতুন করে জমেলা বেগমের জন্য একটি ঘর নির্মাণ, বাড়ির ভিটায় মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। জমেলা বেগমের বিষয়টি জানার পর তাঁর বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার প্রয়োজন মনে হয়েছে। তাঁর জীবনযাত্রার কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রায় এক দশক ঘরবন্দি থাকার পর হুইলচেয়ার পেয়ে জমেলা বেগমের চোখেমুখে দেখা যায় স্বস্তির ছাপ। এখন অন্তত ঘরের বাইরে কিছুটা চলাফেরা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর।
জমেলা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করতে না পারায় ঘরের মধ্যেই থাকতে হয়েছে। হুইলচেয়ার পাওয়ায় এখন বাইরে বের হওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রশাসন ও যারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা জমেলা বেগমের পাশে জেলা প্রশাসন দাঁড়ানোয় তাঁর জীবনে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জমেলা বেগমের মতো সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।