০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহুল আলোচিত মামলায় তামিমা তাম্মির দীর্ঘ জেরা, একের পর এক অভিযোগ অস্বীকার

  • আব্দুর রহমান
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকাঃ আজ দুপুরে আদালতে শুরু হয় বহুল আলোচিত এই মামলার জেরা পর্ব। আসামি তামিমা সুলতানা তাম্মিকে কেন্দ্র করে টানা প্রশ্ন করেন আইনজীবীরা। জেরার প্রতিটি ধাপে তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক উঠে আসে আদালতের সামনে।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও মামলার বাদী রাকিব। আইনজীবীদের প্রশ্নে তামিমা তার প্রথম সংসার ভাঙার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, পারিবারিক ও মানসিক অমিলের কারণে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে এবং তালাকনামায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে সম্মতি জানান।

জেরায় জানতে চাওয়া হয়, রাকিবের বিরুদ্ধে ভরণ-পোষণ, যৌতুক বা অন্য কোনো মামলা করা হয়েছে কি না। তামিমা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো মামলা করেননি। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি ‘না’ বলেন।

পরবর্তী পর্যায়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয় ওঠে আসে। এ সময় আদালত কক্ষে সাময়িক আলোচনার সৃষ্টি হলেও তামিমা ছিলেন শান্ত ও সংযত। তিনি জানান, নাসির হোসেনকে নিজের অতীত ও ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই অবগত করেছিলেন।

একপর্যায়ে আইনজীবীরা অভিযোগের ভাষা আরও কঠোর করেন। বর্তমানে তিনি এখনো রাকিবের স্ত্রী এবং নাসিরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে তামিমা দৃঢ়ভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

কাবিননামা ও তালাকনামায় জন্মসালের অমিল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতারণার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তিনি তা স্পষ্টভাবে নাকচ করেন। অর্থনৈতিক প্রলোভন বা অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগসহ একাধিক প্রশ্নের জবাবে তামিমা একই অবস্থান বজায় রাখেন।

দুপুরের বিরতির পর পুনরায় জেরা শুরু হলে আদালতের পরিবেশ আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে। প্রতিটি বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে নথিভুক্ত করা হয়।

জেরায় বলা হয়, রাকিব পেশায় একজন পর্দার দোকানের ম্যানেজার এবং নাসির আর্থিকভাবে সচ্ছল। রাকিবের আর্থিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ বিয়ের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এ অভিযোগের জবাবে তামিমা বলেন, বিষয়টি সত্য নয়।

তিনি আরও অস্বীকার করেন যে, তিনি এখনো রাকিবের স্ত্রী অথবা নাসিরের সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়িত রয়েছেন। বৈধ তালাক হয়নি—এমন অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

দিনব্যাপী জেরা শেষে আদালত কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ মে এ মামলায় চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে দরিদ্র রোগী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

বহুল আলোচিত মামলায় তামিমা তাম্মির দীর্ঘ জেরা, একের পর এক অভিযোগ অস্বীকার

প্রকাশের সময়ঃ ১০:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

ঢাকাঃ আজ দুপুরে আদালতে শুরু হয় বহুল আলোচিত এই মামলার জেরা পর্ব। আসামি তামিমা সুলতানা তাম্মিকে কেন্দ্র করে টানা প্রশ্ন করেন আইনজীবীরা। জেরার প্রতিটি ধাপে তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক উঠে আসে আদালতের সামনে।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও মামলার বাদী রাকিব। আইনজীবীদের প্রশ্নে তামিমা তার প্রথম সংসার ভাঙার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, পারিবারিক ও মানসিক অমিলের কারণে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে এবং তালাকনামায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে সম্মতি জানান।

জেরায় জানতে চাওয়া হয়, রাকিবের বিরুদ্ধে ভরণ-পোষণ, যৌতুক বা অন্য কোনো মামলা করা হয়েছে কি না। তামিমা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো মামলা করেননি। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি ‘না’ বলেন।

পরবর্তী পর্যায়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয় ওঠে আসে। এ সময় আদালত কক্ষে সাময়িক আলোচনার সৃষ্টি হলেও তামিমা ছিলেন শান্ত ও সংযত। তিনি জানান, নাসির হোসেনকে নিজের অতীত ও ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই অবগত করেছিলেন।

একপর্যায়ে আইনজীবীরা অভিযোগের ভাষা আরও কঠোর করেন। বর্তমানে তিনি এখনো রাকিবের স্ত্রী এবং নাসিরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে তামিমা দৃঢ়ভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

কাবিননামা ও তালাকনামায় জন্মসালের অমিল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতারণার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তিনি তা স্পষ্টভাবে নাকচ করেন। অর্থনৈতিক প্রলোভন বা অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগসহ একাধিক প্রশ্নের জবাবে তামিমা একই অবস্থান বজায় রাখেন।

দুপুরের বিরতির পর পুনরায় জেরা শুরু হলে আদালতের পরিবেশ আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে। প্রতিটি বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে নথিভুক্ত করা হয়।

জেরায় বলা হয়, রাকিব পেশায় একজন পর্দার দোকানের ম্যানেজার এবং নাসির আর্থিকভাবে সচ্ছল। রাকিবের আর্থিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ বিয়ের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এ অভিযোগের জবাবে তামিমা বলেন, বিষয়টি সত্য নয়।

তিনি আরও অস্বীকার করেন যে, তিনি এখনো রাকিবের স্ত্রী অথবা নাসিরের সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়িত রয়েছেন। বৈধ তালাক হয়নি—এমন অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

দিনব্যাপী জেরা শেষে আদালত কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ মে এ মামলায় চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।