০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় অশালীন ভাষায় শ্রমিক নেতার বক্তব্য, ব্যাখ্যায়ও কাটেনি বিতর্ক

 

ঢাকাঃ সম্প্রতি একটি মানববন্ধনে শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে মাইকে কটু ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দায়িত্বশীল একজন শ্রমিক নেতার এমন বক্তব্য শ্রমিক আন্দোলনের ভাষা ও শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অতি সম্প্রতি আশুলিয়ায় ‘অবহেলিত শ্রমিক-কর্মচারী’ ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি তুহিন অপর কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তুহিন তাঁর বক্তব্যকে পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েই তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাঁর দাবি, অপরাধীকে অপরাধী এবং চোরকে চোর বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।

তবে প্রকাশ্য মঞ্চে গালিগালাজ ও কটূক্তি রাজনৈতিক ও সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর ব্যবহৃত ভাষা হয়তো শতভাগ যথাযথ ছিল না। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিকেই তিনি সঠিক বলে মনে করেছেন। তবে কেন এমন ভাষা ব্যবহার প্রয়োজন হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এ ধরনের বক্তব্য সমাজে, বিশেষ করে তরুণ শ্রমিকদের মধ্যে কী ধরনের বার্তা পৌঁছে দেয়, এমন প্রশ্নে তুহিন দেশের সামগ্রিক নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, সমাজের উচ্চশিক্ষিত ও প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিও দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।

তাই নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার অবস্থান এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন,দেশের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কাউকে ভালো বলা এখন কঠিন।

এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য নেতারা প্রকাশ্য কর্মসূচিতে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন,এভাবে অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য দিলে আগামী প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকে কী শিখবে? আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করি। তাই আমাদের বক্তব্য আরও সংযত, যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক হওয়া উচিত। সুস্থ চিন্তার কোনো মানুষ মাইকে এভাবে গালিগালাজ করে বক্তব্য দিতে পারেন না।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন,যিনি এ ধরনের বক্তব্য দেন, তাঁর হিতাহিত জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে হয়। কাজ করতে গেলে ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, কিন্তু জনসম্মুখে কাউকে গালিগালাজ করা কোনোভাবেই শিষ্টাচারসম্মত নয়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে ডা. সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীন বরণ

আশুলিয়ায় অশালীন ভাষায় শ্রমিক নেতার বক্তব্য, ব্যাখ্যায়ও কাটেনি বিতর্ক

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

ঢাকাঃ সম্প্রতি একটি মানববন্ধনে শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে মাইকে কটু ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দায়িত্বশীল একজন শ্রমিক নেতার এমন বক্তব্য শ্রমিক আন্দোলনের ভাষা ও শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অতি সম্প্রতি আশুলিয়ায় ‘অবহেলিত শ্রমিক-কর্মচারী’ ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি তুহিন অপর কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তুহিন তাঁর বক্তব্যকে পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েই তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাঁর দাবি, অপরাধীকে অপরাধী এবং চোরকে চোর বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।

তবে প্রকাশ্য মঞ্চে গালিগালাজ ও কটূক্তি রাজনৈতিক ও সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর ব্যবহৃত ভাষা হয়তো শতভাগ যথাযথ ছিল না। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিকেই তিনি সঠিক বলে মনে করেছেন। তবে কেন এমন ভাষা ব্যবহার প্রয়োজন হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এ ধরনের বক্তব্য সমাজে, বিশেষ করে তরুণ শ্রমিকদের মধ্যে কী ধরনের বার্তা পৌঁছে দেয়, এমন প্রশ্নে তুহিন দেশের সামগ্রিক নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, সমাজের উচ্চশিক্ষিত ও প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিও দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।

তাই নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার অবস্থান এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন,দেশের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কাউকে ভালো বলা এখন কঠিন।

এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য নেতারা প্রকাশ্য কর্মসূচিতে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন,এভাবে অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য দিলে আগামী প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকে কী শিখবে? আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করি। তাই আমাদের বক্তব্য আরও সংযত, যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক হওয়া উচিত। সুস্থ চিন্তার কোনো মানুষ মাইকে এভাবে গালিগালাজ করে বক্তব্য দিতে পারেন না।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন,যিনি এ ধরনের বক্তব্য দেন, তাঁর হিতাহিত জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে হয়। কাজ করতে গেলে ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, কিন্তু জনসম্মুখে কাউকে গালিগালাজ করা কোনোভাবেই শিষ্টাচারসম্মত নয়।