০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, কার্যসহকারীর টেবিলে কমিশন বাণিজ্য

 

লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১ম ও ২য় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) সংস্কার কর্মসূচির অধীন বাস্তবায়িত বেশ কিছু প্রকল্পে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রকল্পে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কাজ হয়েছে, কোথাও আবার একেবারেই হয়নি। অথচ জুনে পুরো টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া কিছু প্রকল্পের কাজই হয়নি। তবু কাগজে-কলমে প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম- ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার বেশিরভাগ প্রকল্পে কাজেও হয়েছে ব্যপক অনিয়ম। প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড খুজে পাওয়া যায়নি। সঠিক তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।

বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর। যোগদানের পর থেকেই পিআইও এইচ এম মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম করেই যাচ্ছেন। কার্যসহকারীকে দিয়ে করে যাচ্ছেন কমিশন বানিজ্য।

জানা যায়, পিআইও অফিসে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে বাধ্যতামূলকভাবে ১০-১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এর বাইরেও স্টিমেট তৈরির জন্য ২ হাজার টাকা, সাইনবোর্ড বাবদ ১ হাজার টাকা, মাস্টাররোল প্রস্তুতের জন্য ৩ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প বাবদ ১ হাজার টাকা, ব্যাংক চার্জ বাবদ ২০০ টাকা, ট্রেজারি চালান বাবদ ৫০০ টাকা এবং কোনো প্রকল্পের কাজ মোটেও না হলে অতিরিক্ত ২৯ শতাংশসহ অডিট ফি বাবদ ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন করেন পিআইও অফিসের কার্যসহকারী রওশনুজ্জামান।

এখানেই শেষ নয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পে ভ্যাট ও আয়কর বাধ্যতামূলক না থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি প্রকল্পের বিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভ্যাট ও আয়করের টাকা কেটে রাখা হয় কার্যসহকারীর টেবিলে।

সরজমিনে দেখা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২য় পর্যায়ে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় তুষভান্ডার ইউনিয়নের পশ্চিশ কাশিরাম গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৪০০ বর্গমিটার মাটি ভড়াটে ৫.১১০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে শুধু কাগজে কলমে। বাস্তবে মাঠে মাটি ভরাটের আলামত খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর এই প্রকল্পটির সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে পিআইও অফিসের কার্যসহকারী রওশনুজ্জামানের। সেই সাথে প্রকল্পটির স্থানে পাওয়া যায়নি সাইনবোর্ড। কাবিখা প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারী হাসপাতাল চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০০ বর্গমিটার মাটি ভড়াটে ৫.১১০ মেঃটন চাল বরাদ্দ থাকলেও হয়নি কাজ, সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে কাগজে কলমে।

কাবিখা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে শ্রমিক নিয়োগ, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ, কাজের অগ্রগতি যাচাই ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের কোনো প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেসব প্রকল্পের নামে চাল–গম উত্তোলন করা হয়েছে, সেখানে শ্রমিক তো দূরের কথা, কিছু প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র আবার কিছু প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি।

গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণ কাজে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ মিটারেরও কম, এতেই শেষ বরাদ্দের তিন লক্ষ টাকা, তবে ১০০ মিটারের পরিবর্তে প্রায় ২০ মিটারের কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও অফিসের কার্যসহকারী রওশনুজ্জামান। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। আবার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ হয়েছে মাত্র ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধু উল্লিখিত প্রকল্পগুলো নয়, বরাদ্দ দেওয়া অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ হয়েছে নামমাত্র এবং কিছু প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে শুধু কাগজে কলমে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারী হাসপাতাল চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন জানান, ‘আমি নামে মাত্র প্রকল্পের সভাপতি, কাজ তো করেন পিআইও অফিস।

পশ্চিম কামিরাম গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভড়াটের বিষয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মুনিরা সুলতানা জানান, বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভড়াটের কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয় জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম মাজহানুর রহমানকে ২ টা ২২ মিনিটে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে যে সকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের বিষয় তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে দরিদ্র রোগী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

কালীগঞ্জে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, কার্যসহকারীর টেবিলে কমিশন বাণিজ্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:০০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

 

লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১ম ও ২য় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) সংস্কার কর্মসূচির অধীন বাস্তবায়িত বেশ কিছু প্রকল্পে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রকল্পে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কাজ হয়েছে, কোথাও আবার একেবারেই হয়নি। অথচ জুনে পুরো টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া কিছু প্রকল্পের কাজই হয়নি। তবু কাগজে-কলমে প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম- ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার বেশিরভাগ প্রকল্পে কাজেও হয়েছে ব্যপক অনিয়ম। প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড খুজে পাওয়া যায়নি। সঠিক তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।

বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর। যোগদানের পর থেকেই পিআইও এইচ এম মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম করেই যাচ্ছেন। কার্যসহকারীকে দিয়ে করে যাচ্ছেন কমিশন বানিজ্য।

জানা যায়, পিআইও অফিসে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে বাধ্যতামূলকভাবে ১০-১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এর বাইরেও স্টিমেট তৈরির জন্য ২ হাজার টাকা, সাইনবোর্ড বাবদ ১ হাজার টাকা, মাস্টাররোল প্রস্তুতের জন্য ৩ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প বাবদ ১ হাজার টাকা, ব্যাংক চার্জ বাবদ ২০০ টাকা, ট্রেজারি চালান বাবদ ৫০০ টাকা এবং কোনো প্রকল্পের কাজ মোটেও না হলে অতিরিক্ত ২৯ শতাংশসহ অডিট ফি বাবদ ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন করেন পিআইও অফিসের কার্যসহকারী রওশনুজ্জামান।

এখানেই শেষ নয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পে ভ্যাট ও আয়কর বাধ্যতামূলক না থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি প্রকল্পের বিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভ্যাট ও আয়করের টাকা কেটে রাখা হয় কার্যসহকারীর টেবিলে।

সরজমিনে দেখা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২য় পর্যায়ে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় তুষভান্ডার ইউনিয়নের পশ্চিশ কাশিরাম গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৪০০ বর্গমিটার মাটি ভড়াটে ৫.১১০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে শুধু কাগজে কলমে। বাস্তবে মাঠে মাটি ভরাটের আলামত খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর এই প্রকল্পটির সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে পিআইও অফিসের কার্যসহকারী রওশনুজ্জামানের। সেই সাথে প্রকল্পটির স্থানে পাওয়া যায়নি সাইনবোর্ড। কাবিখা প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারী হাসপাতাল চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০০ বর্গমিটার মাটি ভড়াটে ৫.১১০ মেঃটন চাল বরাদ্দ থাকলেও হয়নি কাজ, সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে কাগজে কলমে।

কাবিখা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে শ্রমিক নিয়োগ, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ, কাজের অগ্রগতি যাচাই ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের কোনো প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেসব প্রকল্পের নামে চাল–গম উত্তোলন করা হয়েছে, সেখানে শ্রমিক তো দূরের কথা, কিছু প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র আবার কিছু প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি।

গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণ কাজে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ মিটারেরও কম, এতেই শেষ বরাদ্দের তিন লক্ষ টাকা, তবে ১০০ মিটারের পরিবর্তে প্রায় ২০ মিটারের কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও অফিসের কার্যসহকারী রওশনুজ্জামান। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। আবার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ হয়েছে মাত্র ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধু উল্লিখিত প্রকল্পগুলো নয়, বরাদ্দ দেওয়া অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ হয়েছে নামমাত্র এবং কিছু প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে শুধু কাগজে কলমে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারী হাসপাতাল চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন জানান, ‘আমি নামে মাত্র প্রকল্পের সভাপতি, কাজ তো করেন পিআইও অফিস।

পশ্চিম কামিরাম গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভড়াটের বিষয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মুনিরা সুলতানা জানান, বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভড়াটের কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয় জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম মাজহানুর রহমানকে ২ টা ২২ মিনিটে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে যে সকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের বিষয় তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।