১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা, সাংবাদিকসহ আহত-৩

 

সাতক্ষীরাঃ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মহেশকুড় এলাকায় সাংবাদিক ফেরদৌসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক ফেরদৌসসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক ফেরদৌসের চাচা শেখ হারুন অর রশিদ ও ভাগ্নে আরাফাত হোসেন রয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংবাদিক ফেরদৌসকে অপহরণের চেষ্টা করে। স্থানীয়দের চিৎকার ও প্রতিরোধের মুখে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে হামলাকারীরা ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সাংবাদিককে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার চাচা শেখ হারুন অর রশিদকেও হামলাকারীরা মারধর করে। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। একইভাবে সাংবাদিকের ভাগ্নে আরাফাত হোসেন হামলার শিকার হয়ে হাতে গুরুতর আঘাত পান বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিজেবপুর গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে তুহিনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। তার সঙ্গে একই এলাকার মেহেদী হাসান ও মাহবুবুর রহমান—উভয়ের পিতা মজিবুর রহমান, জহুর গাজীর ছেলে ওমর ফারুক, অলি সরদারের ছেলে শফিকুল ইসলাম, মৃত নাসিরের ছেলে আরাফাত হোসেন,মৃত জিয়াদ সরদারের ছেলে নুরু সর্দার,জাহের আলীর ছেলে জাফর আলী,মোঃ বাবু মিয়ার ছেলে বাপ্পী,লুৎফর রহমানের ছেলে নূরকবির হোসেনসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিনসহ অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক ফেরদৌস বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে সাংবাদিক ফেরদৌসকে রক্ষা করেন বলে জানা গেছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আহত সাংবাদিকসহ তিন জন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস বড় ভাই ফিরোজ আহমেদ।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন বলেন, থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে দরিদ্র রোগী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা, সাংবাদিকসহ আহত-৩

প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

সাতক্ষীরাঃ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মহেশকুড় এলাকায় সাংবাদিক ফেরদৌসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক ফেরদৌসসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক ফেরদৌসের চাচা শেখ হারুন অর রশিদ ও ভাগ্নে আরাফাত হোসেন রয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংবাদিক ফেরদৌসকে অপহরণের চেষ্টা করে। স্থানীয়দের চিৎকার ও প্রতিরোধের মুখে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে হামলাকারীরা ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সাংবাদিককে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার চাচা শেখ হারুন অর রশিদকেও হামলাকারীরা মারধর করে। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। একইভাবে সাংবাদিকের ভাগ্নে আরাফাত হোসেন হামলার শিকার হয়ে হাতে গুরুতর আঘাত পান বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিজেবপুর গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে তুহিনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। তার সঙ্গে একই এলাকার মেহেদী হাসান ও মাহবুবুর রহমান—উভয়ের পিতা মজিবুর রহমান, জহুর গাজীর ছেলে ওমর ফারুক, অলি সরদারের ছেলে শফিকুল ইসলাম, মৃত নাসিরের ছেলে আরাফাত হোসেন,মৃত জিয়াদ সরদারের ছেলে নুরু সর্দার,জাহের আলীর ছেলে জাফর আলী,মোঃ বাবু মিয়ার ছেলে বাপ্পী,লুৎফর রহমানের ছেলে নূরকবির হোসেনসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিনসহ অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক ফেরদৌস বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে সাংবাদিক ফেরদৌসকে রক্ষা করেন বলে জানা গেছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আহত সাংবাদিকসহ তিন জন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস বড় ভাই ফিরোজ আহমেদ।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন বলেন, থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।