
মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৪ আগস্ট)সকাল সারে দশটার দিগে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ সমাবেশ- মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সারে দশটার দিকে হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা শাহীন এর বিরোদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট, হত্যার হুমকি, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে হরিরামপুর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির নেতা মোশাররফ হোসেন ও যুবদল নেতা মো. শাহীন মোল্লার নেতৃত্বেও পৃথক মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে তারা আন্দারমানিক এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, হরিরামপুরে এখনো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। আরো বক্তব্য রাখেন মোঃ সফিক বিশ্বাস।
স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে কর্মসূচি চলাকালিন সময়ের একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পৃথকভাবে দুটি মিছিল বের করা হয়। রাজনৈতিক বিরোধ দ্রুত নিরসন করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারন করতে পারে।
মিছিল শেষে মো.বাদল হোসেন যুবদল নেতা শাহীন মোল্লার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বলে জানান। এ সময় পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়সহ এসব কর্মকাণ্ডের বন্ধের দাবি জানান।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করে যার যার মতো চলে গেছে।
আব্বাসী, স্টাফ রিপোর্টার 


















