০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে তিতাসের চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে চলছে ৪টি মিষ্টির কারখানা ও ৩টি খাবার হোটেল 

 

নারায়ণগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল ও মক্কীনগর এলাকায় তিতাসের চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে ৪টি মিষ্টির কারখানা ও ৩টি খাবার হোটেল চলছে।

গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিরাঝিল ৪নং রোডে প্রবেশ করতেই লাজ ফার্মার বিপরীত দিকে রয়েছে আদি মামা ভাগিনা হোটেল। এখানে রয়েছে চোরাই গ্যাস। হোটেলের সামনে বোতল গ্যাস রেখে পরাটা তৈরি করে লোক দেখানোর জন্য। অথচ হোটেলের সকল খাবার চোরাই গ্যাস দিয়ে তৈরি করছে। ৪ নং রোডের মতিন এর মাঠ নামে পরিচিত তার ছেলে জসিম মিষ্টি তৈরির কারখানা ভাড়া দিয়েছে অবৈধ গ্যাস দিয়ে। জসিমের বাড়িতে প্রবেশের আগে রয়েছে রফিকের চায়ের দোকান।

এই চায়ের দোকান এর পাশেই দুটি কক্ষ মিষ্টির কারখানায় অবৈধ গ্যাস দিয়েছে জসিম। এছাড়া জসিমের রয়েছে এখানে কয়েকটি বাড়ি। সেগুলোতেও রয়েছে একাধিক অবৈধ গ্যাসের চুলা।

হিরাঝিল ৩নং রোডের মসজিদের বিপরীত দিকে ২৯৫ নঙ বাড়ির শফিকুল ইসলাম চৌধুরী ভিলার শামসুদ্দোহা চৌধুরী নামের বহুতল ভবনের নিচতলায় সরু গলি দিয়ে দিয়ে প্রবেশ করে রয়েছে মিষ্টি তৈরির কারখানা। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই বাড়িতে অবৈধ গ্যাস দিয়ে মিষ্টির কারখানাটি।

৪নং রোডের শেষ মাথায় বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের টিনের মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে ওবায়দুল হক মঞ্জিল এর বাড়ি। বাড়িটি একতলার ছাদ এবং উপরে টিন দেওয়া সেখানে রয়েছে দুটি মিস্টির কারখানা।
বছরের পর বছর ধরে এ কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে আসছে।

মক্কীনগর হিরাঝিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওলামালীগের মাহবুব হোসেন মানিক ম্যাচের মধ্যে একটি খাবারের হোটেল রয়েছে। কবির হোটেল নামে পরিচিত। চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে কবির হোটেলের সকল খাবার তৈরি করছে। সে লোক দেখানোর জন্য হোটেলের সামনে একটি গ্যাসের বোতল রেখে পরাটা তৈরি করছে বোতল গ্যাস দিয়ে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মম্যাচ মানিক এই কবিরের কাছে হোটেল ভাড়া দিয়ে চোরাই গ্যাস ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা ওলামালীগ মানিক হাতিয়ে নিচ্ছে হোটেল মালিক কবিরের কাছ থেকে। মানিকের নামে রয়েছে আরোও একটি গ্যাস লাইন। সেটা ব্যবহার করছে তার ছোট ভাই মজু। মজুর ম্যাচে রয়েছে একটি মিষ্টি তৈরি কারখানা। গত ৩ মাস আগে মিষ্টির কারখানার গ্যাস লাইন কেটে দিলেও তারা চোরাই গ্যাস ব্যবহার করছে কারখানায়।

মক্কীনগর মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে রয়েছে তৃপ্তি হোটেল। হোটেলের মালিক আমির হোসেন। কয়েক বছর ধরে আমির হোসেন চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে খাবার হোটেল ব্যবসা করছে। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসকল কারখানা ও হোটেল চলছে বলে তারা দম্ভোক্তি করেন।
প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার গ্যাস চুরি করলেও তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষের

কোন নজরদারি না থাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও অবৈধ চুলার ব্যবহার বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই সকল খাবার হোটেল ও মিষ্টির কারখানা গুলোর গ্যাস লাইস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিতাসগ্যস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মাগুরায় ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক মাদক মামলার এক আসামি আটক 

নারায়ণগঞ্জে তিতাসের চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে চলছে ৪টি মিষ্টির কারখানা ও ৩টি খাবার হোটেল 

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

 

নারায়ণগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল ও মক্কীনগর এলাকায় তিতাসের চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে ৪টি মিষ্টির কারখানা ও ৩টি খাবার হোটেল চলছে।

গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিরাঝিল ৪নং রোডে প্রবেশ করতেই লাজ ফার্মার বিপরীত দিকে রয়েছে আদি মামা ভাগিনা হোটেল। এখানে রয়েছে চোরাই গ্যাস। হোটেলের সামনে বোতল গ্যাস রেখে পরাটা তৈরি করে লোক দেখানোর জন্য। অথচ হোটেলের সকল খাবার চোরাই গ্যাস দিয়ে তৈরি করছে। ৪ নং রোডের মতিন এর মাঠ নামে পরিচিত তার ছেলে জসিম মিষ্টি তৈরির কারখানা ভাড়া দিয়েছে অবৈধ গ্যাস দিয়ে। জসিমের বাড়িতে প্রবেশের আগে রয়েছে রফিকের চায়ের দোকান।

এই চায়ের দোকান এর পাশেই দুটি কক্ষ মিষ্টির কারখানায় অবৈধ গ্যাস দিয়েছে জসিম। এছাড়া জসিমের রয়েছে এখানে কয়েকটি বাড়ি। সেগুলোতেও রয়েছে একাধিক অবৈধ গ্যাসের চুলা।

হিরাঝিল ৩নং রোডের মসজিদের বিপরীত দিকে ২৯৫ নঙ বাড়ির শফিকুল ইসলাম চৌধুরী ভিলার শামসুদ্দোহা চৌধুরী নামের বহুতল ভবনের নিচতলায় সরু গলি দিয়ে দিয়ে প্রবেশ করে রয়েছে মিষ্টি তৈরির কারখানা। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই বাড়িতে অবৈধ গ্যাস দিয়ে মিষ্টির কারখানাটি।

৪নং রোডের শেষ মাথায় বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের টিনের মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে ওবায়দুল হক মঞ্জিল এর বাড়ি। বাড়িটি একতলার ছাদ এবং উপরে টিন দেওয়া সেখানে রয়েছে দুটি মিস্টির কারখানা।
বছরের পর বছর ধরে এ কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে আসছে।

মক্কীনগর হিরাঝিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওলামালীগের মাহবুব হোসেন মানিক ম্যাচের মধ্যে একটি খাবারের হোটেল রয়েছে। কবির হোটেল নামে পরিচিত। চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে কবির হোটেলের সকল খাবার তৈরি করছে। সে লোক দেখানোর জন্য হোটেলের সামনে একটি গ্যাসের বোতল রেখে পরাটা তৈরি করছে বোতল গ্যাস দিয়ে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মম্যাচ মানিক এই কবিরের কাছে হোটেল ভাড়া দিয়ে চোরাই গ্যাস ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা ওলামালীগ মানিক হাতিয়ে নিচ্ছে হোটেল মালিক কবিরের কাছ থেকে। মানিকের নামে রয়েছে আরোও একটি গ্যাস লাইন। সেটা ব্যবহার করছে তার ছোট ভাই মজু। মজুর ম্যাচে রয়েছে একটি মিষ্টি তৈরি কারখানা। গত ৩ মাস আগে মিষ্টির কারখানার গ্যাস লাইন কেটে দিলেও তারা চোরাই গ্যাস ব্যবহার করছে কারখানায়।

মক্কীনগর মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে রয়েছে তৃপ্তি হোটেল। হোটেলের মালিক আমির হোসেন। কয়েক বছর ধরে আমির হোসেন চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে খাবার হোটেল ব্যবসা করছে। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসকল কারখানা ও হোটেল চলছে বলে তারা দম্ভোক্তি করেন।
প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার গ্যাস চুরি করলেও তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষের

কোন নজরদারি না থাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও অবৈধ চুলার ব্যবহার বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই সকল খাবার হোটেল ও মিষ্টির কারখানা গুলোর গ্যাস লাইস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিতাসগ্যস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন