০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

  • আব্দুর রহমান
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪৪ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকাঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়েছে। তার পক্ষে পাঠানো এক আইনি চিঠিতে বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়ের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা Kingsley Napley LLP বাংলাদেশে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠায়। তবে বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট কেউই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায্য বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের পরিপন্থী। এতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হওয়া এবং নিজ পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রধান কৌঁসুলির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আইসিটির এখতিয়ার বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ঘটনাবলির বিচার করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে এবং ভূতাপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এসব অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচারযোগ্য ছিল বলেও দাবি করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বক্তব্য উদ্ধৃত করে চিঠিতে বলা হয়েছে, এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচার, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও প্রতিরক্ষার সুযোগসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমন বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বা সামারি এক্সিকিউশন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিচার পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।

আইনি প্রতিনিধিরা ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছেন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে দরিদ্র রোগী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

 

ঢাকাঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়েছে। তার পক্ষে পাঠানো এক আইনি চিঠিতে বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়ের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা Kingsley Napley LLP বাংলাদেশে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠায়। তবে বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট কেউই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায্য বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের পরিপন্থী। এতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হওয়া এবং নিজ পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রধান কৌঁসুলির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আইসিটির এখতিয়ার বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ঘটনাবলির বিচার করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে এবং ভূতাপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এসব অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচারযোগ্য ছিল বলেও দাবি করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বক্তব্য উদ্ধৃত করে চিঠিতে বলা হয়েছে, এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচার, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও প্রতিরক্ষার সুযোগসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমন বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বা সামারি এক্সিকিউশন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিচার পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।

আইনি প্রতিনিধিরা ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছেন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।