
ঢাকাঃ এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-কে আদালতে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া পরানোয় প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মানবপাচার আইনের একটি মামলায় দ্বিতীয় দফায় ১১ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানি শেষে এজলাস থেকে নামার সময় নিজের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের জন্য ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার পরও আজ তাকে হাতকড়া পরতে হচ্ছে। তার দাবি, দেশপ্রেমিক ভূমিকার কারণেই তাকে হয়রানি ও হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, এক-এগারোর সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সেই সময় রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তাদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। রিমান্ডে তিনি সব তথ্য না দেওয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে আরও চার দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান তারা।
এর বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ইতোমধ্যে দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। মানবপাচার মামলার আড়ালে ভিন্ন খাতে তদন্ত পরিচালনার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আত্মসাতের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি মানবপাচার মামলায় অতিরিক্ত রিমান্ডের যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। পাশাপাশি আসামির বয়স ৭২ বছরের বেশি, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং এর আগে ব্রেইন সার্জারি ও হৃদযন্ত্রে রিং বসানো হয়েছে। এসব বিবেচনায় না নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে আদালত তাকে প্রথম দফায় পাঁচ দিন এবং পরবর্তীতে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আব্দুর রহমান 
























