আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৩শে মে, ২০২৪ ইং

বৃষ্টিতে ডুবেছে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক, জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের ব্যস্ততম সড়ক বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের আশুলিয়ার বেশ কিছু অংশে ঢেউ খেলছে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টিতে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাইপাইল-জামগড়া সহ বিভিন্ন শাখা সড়ক এখন হাঁটুপানির নিচে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়ক ব্যবহারকারীদের।
এদিকে বাইপাইলের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বাইপাইলের আড়ত ও কাঁচাবাজার। এ জন্য কিছু দোকান খুললেও ক্রেতা দেখা যায়নি। এ অবস্থার জন্য দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন তাঁরা।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় চারিদিক বৃষ্টির পানি থইথই করছে। বাইপাইল স্ট্যান্ড থেকে জামগড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের এ অবস্থা। সড়কের আশপাশের বেশির ভাগ বাড়িঘর, বাজার ও আড়তগুলোও এখন পানির নিচে। গতকালের বৃষ্টির পর থেকেই বাড়তে থাকে পানি। আর সকাল হতেই যাত্রীদের কাছে বিশাল আতঙ্ক নিয়ে দেখা দেয় এই ডুবে থাকা সড়ক।
অনেককে হেঁটে ভিজে ভিজে কোমরপানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। চলতি পথে সড়কে মোটরসাইকেল বিকল হয়ে যায়। সেগুলো অনেকেই পানিতে নেমে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ বাড়তি ভাড়ায় রিকশায় যাতায়াতের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে পানির নিচে থাকা গর্তে রিকশা পড়ে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী আহতের ঘটনাও ঘটে।
বাইপাইলে স্ত্রী, সন্তানসহ বেশ কিছুক্ষণ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারেননি সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, বাসে যে উঠব ওতটুকু শুকনো জায়গাও তো নেই। বাধ্য হয়েই ময়লা পানির মধ্যেই নেমে মানুষ বাসে উঠছেন। বৃষ্টির পানি আর ড্রেনের পানি তো একাকার হয়ে গেছে। এই পানিতে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে কীভাবে নামি।
বাইপাইলের কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারী বৃষ্টি হলেই তো বাইপাইল ডুবে যায়। কিন্তু রাস্তার দায়িত্ব যাদের, তারা এত বছরেও কিছু করতে পারল না। আমরা তো দোকানই খুলতে পারিনি। দুই-একটি যাও দোকান খোলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কাস্টমার তো নাই। এমনিতেও ব্যবসার অবস্থা ভালো না। এখন যদি ব্যবসা বন্ধই রাখতে হয় তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?
বাইপাইল পাইকারি ফলের আড়তের সভাপতি আইয়ুব আলী বলেন, রাস্তার পানি ঢুকে রাতেই ডুবে গেছে আমাদের আড়ত। আমাদের আড়তের কোনো ব্যবসায়ী কোনো ধরনের বেচাকেনা করতে পারেনি। পণ্যের গাড়ি এসে অপেক্ষা করছে। কিন্তু আনলোড করার সুযোগ নেই। তাছাড়া সারা বছরই দেখি কাজ করে সড়ক জনপথের লোকজন। কী কাজ করে আল্লাহই জানে। বৃষ্টি বেশি হয়েছে মানলাম, কিন্তু বাইপাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেটার কোনো প্রতিকার থাকবে না তা তো হতে পারে না।
বর্তমানে সড়কটি সড়ক ও জনপথের আওতা থেকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতাধীন। ফলে এই সড়কটির দায়-দায়িত্ব এখন এই প্রকল্পের।
এ বিষয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ, আমরা পাম্পও লাগিয়েছি। সামনের বছর আর এই কষ্ট থাকবে না। মূল ড্রেনের কাজ শুরু হবে দু-এক মাসের মধ্যেই, তখন আর এই সমস্যা থাকবে না। এ ছাড়াও পানি যাওয়ার কোথাও রাস্তা নাই। এর সঙ্গে যোগ হয় ইন্ডাস্ট্রির পানি। যখন বৃষ্টি থাকে না তখনো রাস্তার ওপরে পানি থাকে। আমার লোকেরা চেষ্টা করছে, আমিও সাইট থেকে মাত্রই ঘুরে গেলাম। রাস্তাও ভেঙেটেঙ্গে গেছে, আগামী সপ্তাহেই আমরা ইনশা আল্লাহ রিপেয়ারের কাজ করে ফেলতে পারব, যদি বৃষ্টি না থাকে। বাইপাইল অংশের পানি আজকেই নেমে যাবে, আর ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনের পানি আশা করি কালকের মধ্যেই নেমে যাবে।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ